বিএলও বিতর্কে কাঠগড়ায় উঠেও বিএলও-দের ” হিরো” বানালেন সিইও
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যে বিএলও মৃত্যু ও বিএলও-দের কাজের চাপ বাড়ানোর বিরুদ্ধে যখন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শাসকদল সিইও দপ্তরকে কাঠগড়ায় তুলছে তখন বিএলও-দের
” এসআইআর পর্বের
হিরো ” বলে উল্লেখ করলেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। সিইও-র মতে ” বিএলও-রা প্রচুর পরিশ্রম করছেন। কুড়ি দিনের মধ্যে সব ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাওয়া, ফর্ম দেওয়া, ফর্ম কালেক্ট করা, সব কাজে বিএলও-রা হিরোর মতো কাজ করেছেন।” সিইও দপ্তর জানিয়েছে, ১২১ জন বিএলও ১০০ শতাংশ কাজ শেষ করেছেন। ৯০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ করেছেন ৫৭৪২ জন বিএলও। উল্লেখযোগ্য, ভালো পারফর্ম করা বিএলও-দের পুরস্কৃত করারও উদ্যোগ নিয়েছে সিইও দপ্তর। অবশ্য রাজ্যে যেভাবে সরকারপক্ষ বিএলও মৃত্যু ও অপরিকল্পিতভাবে এসআইআর, বিএলও-দের শাস্তির খাঁড়া ঝুলিয়ে কাজ করানোর মত অভিযোগে সিইও দপ্তর তথা কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে এগুলো তার “ড্যামেজ কন্ট্রোল” বলে কটাক্ষ করেছে সোমবার সিইও দপ্তরে বিক্ষোভ-অব অবস্থানকারী বিএলও আধিকার মঞ্চের নেতৃত্বরা। যদিও পাল্টা সিইও জানিয়েছেন, ” যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু না করে থাকে তাহলে তার তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল হলে সেটা সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই রাজ্যে কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরাও চাইনা কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে। তবে যদি কেউ এমন কিছু কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করে তাহলে তো কমিশনকে ব্যবস্থা নিতেই হবে। ” পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, ” বিএলও-দের উপর চাপ হচ্ছে কোথাও কোথাও, যদি কোনও জেলায় এমন কোনও ঘটনা ঘটে বিএলও মৃত্যু হয় তাহলে আমরা সেই জেলার ডিইও দের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছি । এই রিপোর্ট পেলেই আমরা ইসিআইকে সেটা পাঠিয়ে দেব।” এমনকি কর্মরত অবস্থায় কোনও বিএলও অসুস্থ হলে
কোনও বিএলও অসুস্থ হলে পরিবর্তন হবে কী করে?
বিএলও অ্যাপয়েন্টমেন্ট জেলা স্তর থেকে হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনও বিএলও অসুস্থ হলে বিএলও পরিবর্তনের কাজ ডিইও/ইআরও নিজেরাই করতে পারবেন। প্রয়োজন ভিত্তিক করতে হলে তিনি সবকটা কেসেই অ্যাপ্রুভাল দিয়ে দেবেন বলেও জানান সিইও। তাঁর মতে, রাজ্যে প্রায় এক লক্ষ লোক কাজ করছে মাঠে নেমে কাজ করছেন। এরমধ্যে যদি দুই-একটা ভুল ভ্রান্তি হয় সেটা নজরে এলেই ঠিক করা হচ্ছে। ৪ ডিসেম্বরের আগেই শেষ করতে হবে এমন কোনও নির্দেশ কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তবে অনুরোধ করা হয়েছে যদি একটু তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করা যায় বলেও জানিয়েছেন মনোজ কুমার আগরওয়াল।
তবে সিএএ ক্যাম্প নিয়ে কমিশনের কোনও ভূমিকা নেই বলেও জানান তিনি।
সিইও দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে , এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজে প্রথম পাঁচে থাকা জেলাগুলি হল যথাক্রমে পুর্ব বর্ধমান-৬৬.৪৭ %,
আলিপুরদুয়ার-৬৬.৪১%,
উত্তর দিনাজপুর -৬৫.৪৪%,
মালদহ-৬৫.২৩ % এবং
পুর্ব মেদিনীপুর-৬৫.২৭ %।
গোটা রাজ্যে সোমবার সন্ধ্যে পর্যন্ত ৪ কোটি ৫৫ লক্ষ ফর্ম ডিজিটাইজ করা হয়েছে (৫৯.৪শতাংশ)। অনুপস্থিতি, মৃত্যু, ডুপ্লিকেট অথবা স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের জন্য এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ ৩৩ হাজার ফর্ম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। রাজ্যে ২৯৪ টি বিধানসভার মধ্যে পারফর্মেন্সের বিচারে প্রথম ২০ টি বিধানসভা হল যথাক্রমে গোসাবা, ক্যানিং,
ফলতা, মোথাবাড়ি, কাকদ্বীপ, কোমরপুর,
সাগর, বাসন্তি, সবং,
কুমারগ্রাম, পিংলা, কেতুগ্রাম
গোয়ালপোখর, কাঁথি, উত্তর
ভাঙর ও মগরাহাট পশ্চিম।
সিইও দপ্তর জানিয়েছে, ১৮,৫৮,৩৮৪ ভোটারের এখনও ম্যাপিং হয়নি।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে খোদ মুখ্যমন্ত্রী দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কে লেখা উপর্যুপরি দুটি চিঠিতে যে অভিযোগ করেছেন তা নিয়ে বিশেষ আমল দিতে চান না সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ প্রসঙ্গে মনোজবাবুর মন্তব্য
” ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়ে কমিশন আগেই জানিয়েছিল যে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে কাজ করা যাবে না। সেকারণেই সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে। ”
অন্যদিকে, বেসরকারি আবাসনে ভোটের বুথ করা নিয়েও কমিশনের সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দেওয়ার কথা জানিয়ে সিইও-র মন্তব্য ” পলিসি ডিসিসন ইসিআই নেয়। এতে আমার কিছু করার নেই। এখন ইসিআই যদি নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেয় সেই মোতাবেকই হবে।”

