হেডলাইন

বিএলও-দের অভিযোগকে মান্যতা, সার্ভার সমস্যা মেটাতে পদক্ষেপ কমিশনের

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া চিঠি অন্যদিকে একের পর এক বিএলও মৃত্যু বা আত্মহত্যার জেরে বিএলও-দের সমস্যা নিয়ে নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের পুরণ করা গণনাপত্র ডিজিটাইজড করার পর আপলোড করতে গিয়ে সার্ভার সমস্যা নিয়ে বহুবার শিরোনামে এসেছে বিএলও-দের অভিযোগ। এবার সেই অভিযোগের সত্যতা মেনে নিয়ে সোমবার দুপুরে রাজ্যের সব টেলিফোন সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসছে রাজ্য সিইও দপ্তর। শনিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান ” সোমবার দুপুর একটায় রাজ্যের সব টেলিকম সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে দ্রুততার সঙ্গে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে। রাজ্যের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে সার্ভারের জন্য বিএলও-রা এনুুমারেশন ফর্ম নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে আপলোড করতে পারছেন না। ফলে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। ”
প্রসঙ্গত, এই বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ আসছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে। শুক্রবার ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনাও করেন সিইও। রাজ্যের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নির্দেশ দেন অবিলম্বে রাজ্যের টেলিকম সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। সেই মোতাবেক সোমবার এই বিশেষ বৈঠকের ডাক দিয়েছে সিইও দপ্তর।

উল্লেখযোগ্য, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা হোমওয়ার্ক এবং স্পষ্ট ধারণা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন যে চটজলদি এসআইআরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা নিয়ে প্রথম থেকেই সরব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার উপর একাধিক বিএলও মৃত্যুর ঘটনা ঘৃতাহুতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে এসআইআর ব্যবস্থাপনার ত্রুটিগুলির কথা উল্লেখ করে সে ব্যাপারে কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন। এরপরও গতকাল এক বিএলও-র মৃত্যুতে অস্বস্তিতে পড়ে কমিশন। গতকালই রাজ্যের সমস্ত ডিইও-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে সকল বিডিও, ইআরও বা এইআরও বা সরকারি আধিকারিকরা এসআইআর-এর জন্য নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের কাজে লাগিয়েছেন তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। অবশ্য সার্ভার সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিএলও-রা যে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন কার্যত তা মেনে নিয়ে অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের জন্য টেলিকম সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করতে বলা হয়েছে সিইও দপ্তরকে বলে জানা গেছে।

এদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান আগামী ৯ ডিসেম্বর যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে সেখানেএকমাত্র তাঁদেরই নাম থাকবে যারা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছেন। রাজ্যের পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস, পুরসভা, মহকুমা শাসকের দপ্তর এবং জেলাশাসকের দপ্তরে এই তালিকা সকলের জন্য টাঙানো হবে। এর পাশাপাশি সিইও দপ্তরের ওয়েবসাইটেও দেখা যাবে খসড়া ভোটার তালিকা। একেবারেই বুথ স্তরে প্রত্যেকের নাম প্রকাশ করা হবে। তবে এই তালিকার পাশাপাশি আরেকটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে যেখানে আরও চারটে ভাগ থাকবে। মৃত ভোটার, অনুপস্থিত ভোটার, ভুয়ো ভোটার এবং স্থানান্তরিত ভোটারের নামের তালিকা। স্বাভাবিকভাবেই ত এই তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই তালিকা চূড়ান্ত নয়। এই তালিকায় যাদের নাম বাদ গিয়েছে বা নামের বানান ভুল আছে, ঠিকানা ভুল আছে সেই ভুল সংশোধন যেমন করা যাবে ঠিক তেমনি যদি কেউ নতুনভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান তাহলে তাকে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে ৭ ফেব্রুয়ারি। এই ভোটার তালিকাতেই আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হবে পশ্চিমবঙ্গে।

Share with