হেডলাইন

বিএলও -দের কাজে সঙ্গ দেবেন ইআরও ও অন্যান্যরা , ভুয়ো ভোটার ধরতে এআই প্রযুক্তির ব্যব হার 

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এস আই আর এর কাজ সম্পূর্ণ করতে এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ ছাড়াও ডিজিটাইজ করার কাজে গতি আনতে ফের পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। বি এল ও দের দায়িত্ব ও কর্তব্য বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতীয় জনপ্রতিনিরিত্ব আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান স্মরণ করালো রাজ্য সিইও দপ্তর। যদিও এস আই আর এর কাজে মেকানিজমে গাফিলতি বা হোমওয়ার্কের অভাবের কথা মানতে নারাজ রাজ্য সিইও দপ্তর। একইসঙ্গে ভুয়ো ভোটার ধরতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই এর সাহায্য নেবে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে এনুমারেশন ফর্মে সঠিক ভোটারের ছবি চিহ্নিত করতেও এআই প্রযুক্তির সাহায্য নেবে নির্বাচন কমিশন। এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে ১২ রাজ্যের সিইওদের একথাই জানিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করা থেকে ডিজিটাইজড করার কাজে বি এল ও -দের সাহায্য করবেন ই আর ও, এ ই আর ও, নির্বাচনের কাজে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মী এমনকি রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট -রাও। রাজ্যের সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে নতুন করে যে গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ভিইও -দের এই নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। গাইডলাইনে জানানো হয়েছে রাজনৈতিক দলের কর্মী বি এল এ দৈনিক ৫০ টি এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট বিএল ও-র হাতে তুলে দেবেন। প্রতিটি বিএলএ-কে সাদা কাগজে একটি অঙ্গীকার পত্র বা ডিক্লারেশন বি এল ও-র কাছে জমা দিতে হবে এই মর্মে যে এনুমারেশন ফর্মে প্রতিটি ভোটার তার সামনে যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন যা সত্য এবং নির্ভুল। এই অঙ্গীকার পত্র সহ বিএলএ-দের থেকে এনুমারেশন ফর্ম নেওয়ার পরে ও বিএলও রা প্রয়োজনে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ছবি তুলবেন। যদি ভোটাররা তাদের গণনা পত্রে ছবি লাগিয়ে থাকেন সেখান থেকেও ছবি স্ক্যান করতে পারবেন বিএল ও -রা। সেক্ষেত্রে ছবি অস্পষ্ট হলে ভোটারের বাড়িতে গিয়ে বি এলও- দের ছবি তুলতে হবে। সোমবার পর্যন্ত রাজ্যে আড়াই কোটি এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়েছে। যার মধ্যে ৮০ লক্ষ ফর্ম ডিজিটাইজড করা হয়েছে। সোমবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গ সহ বারোটি রাজ্যের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অষ্ট জানিয়ে এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইড করার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে বিএলও দের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই খসড়া ভোটার তালিকা তৈরি হবে। ফলে তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক বা নির্ভুল এই বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যাবে না। যখনই কোন সন্দেহের অবকাশ থাকবে তখনই ভোটারের বাড়িতে গিয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে বিএলও-কে এমনটাই নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের। অন্যথায় বিএল ও তো বটেই যিনি ভোটারের তথ্যে সই করছেন তাঁকেও শাস্তির কোপে পড়তে হবে। সব মিলিয়ে নতুনভাবে বি এল ও- দের উপর চাপ বাড়ালো নির্বাচন কমিশন।

গত চার নভেম্বর রাজ্যে এস আই আর-এর কাজ শুরু করার পর প্রায় দিন পনেরো অতিক্রান্ত হওয়ার মধ্যেই একাধিকবার এনুমারেশন ফর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিকবার বিএলও থেকে ই আর ও দের গাইডলাইন মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে সিইও দপ্তরকে। একাধিকবার নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হচ্ছে কমিশনকে। সে ক্ষেত্রে কোথাও এস আই আর সংক্রান্ত হোম ওয়ার্কে গাফিলতি ছিল? যেহেতু সরকারি মেকানিজমকে কাজে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করতে হয় কমিশনকে সেক্ষেত্রে কমিশন -সরকার বোঝাপড়ায় কোন সমস্যা তৈরি হয়েছে কি? মনে রাখতে হবে রাজ্যের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু রাজ্যে এস আই আর সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছিলেন ” হোম ওয়ার্কের অভাব”। এদিন সেই তথ্য মানতে চাননি যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। মনোজবাবুর মতে ” কোন বোঝাপড়ার সমস্যা নেই বা হোমওয়ার্কের কোন ত্রুটি নেই। জাতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে সবকিছু বলা আছে যে সরকারি কর্মীদের নির্বাচনের কাজে কি কর্তব্য বা কি করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং সেই কথা প্রশাসনিক কর্তাদের বা নির্বাচন কর্মীদের জানানো হচ্ছে।” যদিও দিন দিন এসআইআর-এর কাজে যেভাবে এলওদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বাড়ছে এবং তার সঙ্গে শাস্তি মূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়ছে সে ক্ষেত্রে এস আই আর সংক্রান্ত কাজ নিয়ে জটিলতাও বেড়ে চলেছে। যদিও রাজ্য সিইও দপ্তরের আশা, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই রাজ্যের এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজড-এর কাজ সম্পন্ন হবে।

Share with