বিএলও সঙ্কট, পাঁচ জেলায় বিকল্প নিয়ম কার্যকরী করতে কমিশনের দ্বারস্থ সিইও
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আশঙ্কা ছিলই। কার্যক্ষেত্রে তা বাস্তব হল। রাজ্যে এসআইআর বৈতরণী পার হতে প্রতি বুথে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক নিয়ম মেনে বিএলও জোগাড় করতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন একাধিক জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও। ইতিমধ্যেই রাজ্যের পাঁচ নির্বাচনী জেলায় ( কলকাতা উত্তর কলকাতা দক্ষিণ হাওড়া দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও পুরুলিয়া) মোট ১,৬০০ বিএলও পদে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। এসআইআর সম্পন্ন করতে যেহেতু বিএলও-রা অপরিহার্য তা বুঝেই দ্রুত পদক্ষেপ করতে চায় নির্বাচন কমিশনও।
উল্লিখিত পাঁচ নির্বাচনী জেলায় কমিশন নির্ধারিত বিএলও নিযুক্তির প্রথম তিনটি নিয়ম অনুযায়ী বিএলও-দের শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় চতুর্থ নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ করতে চায় সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা। সে ক্ষেত্রে রাজ্য সিইও দপ্তরের অনুমোদনের প্রয়োজন। তাই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এই অনুমোদন দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদন মেনে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। এই অবস্থার কথা জানতে পেরে দ্রুত ওই পাঁচ নির্বাচনী জেলাসহ রাজ্যের মোট ২৪টি নির্বাচনী জেলার বিএলও নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম তিনটি নিয়ম মেনে জেলাওয়ারি কত বিএলও নিযুক্ত হয়েছেন এবং চতুর্থ নিয়ম অনুযায়ী আরও কত বিএলও নিয়োগের প্রয়োজন তার সামগ্রিক রিপোর্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দ্রুত চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এই সামগ্রিক রিপোর্ট তৈরি করে দিল্লিতে পাঠিয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন মিললেই চতুর্থ বিকল্প প্রস্তাবকে কার্যকরী করতে পারবেন ওই পাঁচ জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা। আপাতত ডিএলও নিয়োগ সমস্যার জট কাটাতে নির্বাচন কমিশনের দিকেই তাকিয়ে পাঁচ জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও রাজ্য সিইও দপ্তর।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন দেশের সমস্ত সিইও-দের জানিয়েছে যে দেশের প্রতিটি ভোটারকে তাঁদের সংশ্লিষ্ট বি এল এর সঙ্গে সংযুক্ত করতে ECINet-এর সঙ্গে যুক্ত করে একটি বিশেষ মডিউল তৈরি করা হয়েছে যার নাম ” বুক এ কল উইথ বিএলও ” ( Book a Call With BLO)। এই মডিউলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটাররা তাঁদের বিএলও-র সঙ্গে বুথ থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত নানা সমস্যার নিয়ে কথা বলতে পারবেন। এই নির্দিষ্ট মডিউলের সঙ্গে কমিশন থেকে সিইও, ডিইও থেকে ইআরও সকলেই যুক্ত থাকায় ভোটারদের যেকোন সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। তবে রাজ্যের সমস্ত বুথে বি এল ও নিয়োগ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই মডিউল কার্যকর করা যাবে না। সে কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের সিইও দপ্তরের এই আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি চায় নির্বাচন কমিশনও।
বিএলও নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক নির্ধারিত নিয়ম হল সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটার গ্রুপ সি বা তদূর্ধ্ব সরকারি কর্মীরাই বিএলও নিযুক্ত হতে পারবেন। যদি এই প্রাথমিক নিয়মে বিএলও না পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে আরও দুটি বিকল্প নিয়ম রয়েছে। প্রথমত, ওই ভূতের ভোটার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী অথবা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন প্রাপ্ত চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট বুথের ভোটার নন অথচ সন্নিহিত বা পার্শ্ববর্তী বুথের সরকারি কর্মী যিনি ওই নির্দিষ্ট বুথের এলাকায় কাজ করেন এ ধরনের ব্যক্তিকে রাজ্য সিইও দপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করা যেতে পারে। যদি উল্লিখিত তিনটি নিয়ম মেনেও যদি বিএলও শূন্য পদ সম্পূর্ণ পুরো না করা যায় তাহলে বাকি অংশের ক্ষেত্রে চতুর্থ বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে কেন্দ্র অথবা রাজ্য যেকোনও সরকারি সংস্থা বা সংগঠনের কর্মীদের ডেপুটেশনে বিএলও পদে যুক্ত করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই রাজ্যের সিইও দপ্তর কি জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। যেহেতু কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও পুরুলিয়া এই পাঁচ নির্বাচনী জেলায় বিএলও নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম তিনটি নিয়মে সম্পূর্ণ করা যায়নি সে কারণে সর্বশেষ বা চতুর্থ বিকল্প নিয়মকে কাজে লাগিয়ে বি এল ও সমস্যার সমাধান। চান। সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা। তাই কমিশনের নিয়ম মেনে ই এই পাঁচ জেলার মোট ১,৬০০ বিএলও নিয়োগের জন্য চতুর্থ নিয়মকে কার্যকরী করতে কমিশনের অনুমতি চেয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, কলকাতা উত্তর নির্বাচনী জেলার ক্ষেত্রে ৫০০ বিএলও শূন্য পদের সুরাহা করা গেলেও বাকি চারটি নির্বাচনী জেলার জন্য প্রায় ১,১০০শূন্যপদে নিয়ম মেনে বিএলও-র খোঁজ মিলছে না। আর এখানেই নিয়মের গেরোয় ফেঁসেছেন সংশ্লিষ্ট ডিইও থেকে সিইও দপ্তর। বিকল্প হিসেবে চতুর্থ নিয়ম অর্থাৎ কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি সংস্থা বা অন্যান্য সংগঠন থেকে ডেপুটেশন ভিত্তিতে বি এল ও পদে কর্মীদের নিযুক্ত করতে চায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।
কমিশনও পরিস্থিতির বাস্তবতা বুঝে দ্রুত ওই পাঁচ নির্বাচনী জেলা সহ রাজ্যের বাকি ১৯ টি নির্বাচনী জেলায় বিএলও নিযুক্তির সামগ্রিক রিপোর্ট
চেয়ে পাঠিয়েছে।

