বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধি দল কলকাতায়
মৃণাল কান্তি সরকার
••••••••••••••
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। এক ঐতিহাসিক দিন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধজয় ও স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের দিন। যে কারণে, ভারত এই দিনটিকে ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে এসেছে। সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের কাছে এই দিন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তৎকালীন পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল প্রায় ৯৩ হাজার পূর্ব-পাক সেনা। যুদ্ধের ইতিহাসে যা অন্যতম বড় আত্মসমর্পণ ছিল। যার পরেই স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হয়েছিল। প্রতি বছরের মতো এবারেও বিজয় দিবস ধুমধাম করেই পালন করতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। আর সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসছে ২০ জনের প্রতিনিধিদল।
প্রথমাফিক এবছরও ভারতীয় সেনা বিজয় দিবস পালন করতে চলেছে। রবিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর বিজয় দুর্গে এই কথা ঘোষণা করেন মেজর জেনারেল বাঙ্গুরু রঘু। তিনি জানান, এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসছে এক প্রতিনিধিদল। এদিনই বিজয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয় কলকাতায়। এই আবহে বিজয় দুর্গে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে, মোট ২০ জনের প্রতিনিধিদল আসছেন কলকাতায়। সেনার তরফে আরও জানানো হয়, প্রতিবারের মতো এবারও বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতের তরফ থেকে ফোর্ট উইলিয়ামে আসার জন্য বাংলাদেশ সেনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেয় সেই দেশের সেনা। ওই প্রতিনিধিদলে থাকবেন বাংলাদেশ সেনার দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিক, ৮ মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবার। বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন এক ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার সামরিক অফিসার।
সেনার তরফে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকা থেকে ২০ জন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এসে পৌঁছচ্ছেন কলকাতায়। ১৫ই ডিসেম্বর তাঁরা ব্যারাকপুরের মঙ্গল পান্ডে মিলিটারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সেনাদের ‘মিলিটারি টাট্টু’ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ওইদিন রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তাঁরা। ১৬ই ডিসেম্বর সকাল ও সন্ধ্যায় বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় স্মারকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন-সহ একাধিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা। পাশাপাশি, ১৬ তারিখের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকেও।
এদিকে, বিজয় দিবসকে সামনে রেখেই গত ১লা ডিসেম্বর গুয়াহাটি থেকে শুরু হয়েছিল বিজয় বাইক র্যালি। ডিমাপুর, তেজপুর, শিলং, গুয়াহাটি, বিনাগুড়ি, সুকনা, হিলি, শিলিগুড়ি, মালদা, পানাগড় হয়ে এদিন শেষ হয় কলকাতার বিজয় দুর্গে। শেষ পর্বে বাইক চালিয়ে অংশ নেন ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ তথা সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রামচন্দ্র তেওয়ারি। মোট ১৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল এই র্যালি। র্যালির সময় রাইডাররা আগরতলার অ্যালবার্ট এক্কা ওয়ার মেমোরিয়াল, করিমগঞ্জ মনোলিথস, কিলাপাড়া ওয়ার মেমোরিয়াল, বগরা ওয়ার মেমোরিয়াল, হিলি ওয়ার মেমোরিয়াল সহ বিভিন্ন যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

