হেডলাইন

বিলে সম্মতি নিয়ে রাজ্যপালের ক্ষমতা স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্য আইনসভায় পাশ হওয়া কোনও বিলে রাজ্যপাল সম্মতি না-দিলে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারবেন না, এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার ‘প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স’ মামলায় প্রধান বিচারপতি বিআর গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, রাজ্যপালের সামনে তিনটি সাংবিধানিক বিকল্পই রয়েছে—
১) বিলে সই করা,
২) রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো,
৩) সম্মতি না-দিয়ে বিলটি আবার বিধানসভায় ফেরত পাঠানো।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, বিলে সই করা বা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজ্যপালের বিবেচনাধীন এবং আদালত সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। একই সঙ্গে বেঞ্চ জানায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কত দিনের সময়সীমা থাকবে সেটিও আদালত নির্ধারণ করতে পারে না।
তবে দীর্ঘ দিন কোনও পদক্ষেপ না-নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকলে আদালত সীমিত নির্দেশ দিতে পারে,এমনটাই বলেছে সাংবিধানিক বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত বিচারযোগ্য না হলেও, অনির্দিষ্ট বিলম্ব সাংবিধানিক কর্তব্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় আদালত জানায়, কোনও বিল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে রাষ্ট্রপতিকে প্রতিবার সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাইতেই হবে,এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আবার ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালত রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের ক্ষমতা পূরণ করতেও পারে না। বিল আইন হয়ে ওঠার আগের পর্যায়ের সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করে বেঞ্চ।এই মামলার সূত্রপাত তামিলনাড়ু সরকারের দায়ের করা আবেদন থেকে। রাজ্যপালদের বিল অনুমোদনে বিলম্ব নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত শোনার পরই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সুপ্রিম কোর্টের মতামত চান। এর আগে শীর্ষ আদালত তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় কেন্দ্র-সহ বহু পক্ষ আপত্তি তুলেছিল। সেই বিতর্কের প্রেক্ষিতেই আসে বৃহস্পতিবারের গুরুত্বপূর্ণ রায়।

Share with