বঙ্গের ভোটার তালিকাভুক্ত ৫০ শতাংশ শতায়ু ভোটার মৃত ! ৮৫ উর্ধ্বদেরও বাঁচা-মরার হিসেব চায় সিইও দপ্তর
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যে এখনও এসআইআর শুরু হয়নি। তার আগেই বর্তমান ভোটার তালিকায় শতায়ু ভোটারদের ক্ষেত্রে বড় গরমিল ধরা পড়ল। রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকা শতায়ু ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই মৃত! রাজ্যজুড়ে শতায়ু ভোটারদের নিয়ে একটি বিশেষ সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, ২০২৪ লোকসভার ভোটার তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ১২ হাজার ৪৯৪ শতায়ু ভোটার রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সমীক্ষা বা যাচাইকরণের পর দেখা গেছে তাদের মধ্যে ৬ হাজার ২১২ জন শতায়ুর মৃত অথচ যাদের নাম এখনও ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে। বছরে তিনবার ভোটার তালিকার রিভিশন বা যাচাইয়ের কাজ করা হলেও রাজ্যের ভোটার তালিকা যাচাইকরণের ক্ষেত্রে ইআরও, এইআরও, বিএলও এমনকি ডিইও-দের ভুমিকা নিয়ে ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে শতায়ু ভোটারদের এই পরিসংখ্যান। বিষয়টি একেবারেই সুনজরে দেখছে না রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। বঙ্গে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারি করার আগেই এবার ৮৫ উর্ধ্ব বয়সী ভোটারদের নিয়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ করতে চায় রাজ্য সিইও দপ্তর। যেহেতু ৮৫ বছর উর্ধ্ব ভোটাররা বাড়ি থেকেই ভোট দান করেন, কমিশনের পরিভাষায় যাকে ‘ হোম ভোটিং ‘ বলা হয়, সে কারণে ৮৫ বছর থেকে ১০০ বছর এই বয়সি ভোটারদের কতজন বর্তমান ভোটার তালিকার সাপেক্ষে জীবিত আছেন তা নিয়ে ফের একবার পরীক্ষা করতে চায় রাজ্য সিইও দপ্তর। রাজ্যে এসআইআর নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই এই সমীক্ষা বা যাচাইয়ের নির্দেশ দিতে পারেন রাজ্যের সিইও দপ্তর বলে সূত্রের খবর।
বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেশজুড়ে শতায়ু ভোটারদের পরিসংখ্যান নিয়ে একটি বিশেষ সমীক্ষা বা যাচাই করণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। দিল্লিতে গোটা দেশের সিইও-দের নিয়ে বৈঠকে এই যাচাইকরনের আভাস আগেই দিয়েছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তদনুযায়ী রাজ্যে রাজ্যে বর্তমান ভোটার তালিকার সাপেক্ষে শতায়ু ভোটারদের নিয়ে সমীক্ষার কাজ করা হয়। বঙ্গের বাস্তব চিত্র হল, বর্তমান ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত শতায়ু ভোটারদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ মৃত হলেও তাদের নাম এখনো ভোটার তালিকায় রয়ে গেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বক্তব্য ” রাজ্যে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে ইআরও, এইআরও বা বিএলও-দের দায়িত্ব পালনে যে খামতি রয়ে যাচ্ছে এ ধরনের তথ্য তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে নির্বাচন কর্মীদের আরো সতর্ক ও সজাগ করা প্রয়োজন।”
শতায়ু ভোটারদের এই তথ্য সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই এবার ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারদের বাস্তব চিত্র নিয়েও সন্দেহ দানা বেঁধেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে। যেহেতু নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারদের হোম ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় সেক্ষেত্রে প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে সশস্ত্র প্রহরায় ইভিএম সহ ভোট কর্মীদের নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ ভোটিং কম্পার্টমেন্ট তৈরি করতে হয় কমিশনকে। বাস্তব তথ্য হাতে থাকলে বাড়তি নির্বাচনী খরচ ও বাড়তি লোকবলের যোগান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নির্বাচন কমিশন। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রত্যন্ত বা প্রান্তিক এলাকায় একজন ভোটারের জন্য কমিশনকে বিধি মেনে হোম ভোটিং এর ব্যবস্থা করতে হয়। কমিশনের কাছে আগাম সঠিক বা বাস্তব তথ্য থাকলে সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতেও সুবিধা হয় বলেও জানিয়েছেন পদস্থ আধিকারিকরা। সর্বোপরি, দেশজুড়ে নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির যে মিশন নিয়েছে নির্বাচন কমিশন সেই প্রক্রিয়ায় এই ধরনের অস্বচ্ছতা কমিশনের ভূমিকাকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। সেই বিড়ম্বনা এড়াতে শতায়ু ভোটারদের বাস্তব তথ্যকে হাতে নিয়ে এবার ৮৫ বছর উর্ধ্ব ভোটারদের বাস্তব চিত্রটাও সামনে আনতে চায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।

