হেডলাইন

২,২০৮ বুথে শূন্য বিভ্রাটের নেপথ্যে বিএলও-দের ইচ্ছাকৃত ভুল ! রোল ব্যাক অপশনে সংশোধন

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

বিএলও-দের ভুলেই রাজ্যের ২,২০৮ টি বুথে অসংগৃহীত ফর্ম ‘শুন্য ‘ বলে উল্লেখ করে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। বিএলও অ্যাপে অসংগৃহীত ফর্ম ডিজিটাইজড করার সময় যে চারটি ক্যাটেগরিতে ( মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট ও নিখোঁজ) টিক মার্ক করতে হয় এই বুথগুলিতে তা করেননি সং শ্লিস্ট বিএলও-রা। ফলে নির্দিষ্ট সিস্টেম অনুযায়ী কমিশনের সার্ভারে ওই ২,২০৮ টি বুথে অসংগৃহীত ফর্ম একটিও নেই বা ‘ ০ ‘ বলে সেভ হয়েছে। জানা গিয়েছে, কমিশনের সার্ভারে এই তথ্য তা আপলোড হতেই তা সবার আগে চোখে পড়ে খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। অবিলম্বে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার তথা রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্ঞানেশ ভারতীকে জানান তিনি। তদনুযায়ী রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে তথ্য পাঠিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলে কমিশন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ পর্যবেক্ষককেও। এরপরেই গত ৩৬ ঘণ্টায় সংশ্লিষ্ট ডিইও এবং ইআরও ও বিএলও-দের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজখবর নেওয়া হয়। ভুলের খেসারত যে বিএলও-দের দিতেই হবে সেকথা বুঝিয়ে শেষ সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর বিএলও অ্যাপের ‘রোল ব্যাক’ অপশন ব্যবহার করে একের পর এক তথ্য যাচাই করার কাজ শুরু হয় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে। জেলার তথ্যের সঙ্গে যাচাই করতে গিয়ে অসংগৃহীত ফর্মগুলি সংশোধন করা হয়। ২০০২ সালের তালিকা মিলিয়ে একের পর এক ফর্ম যাচাইয়ের পর রাতারাতি সংখ্যার ভার কমে শূন্য-পানে। বুধবার রাত পর্যন্ত ২,২০৮ থেকে নেমে প্রায় ২০-র কাছাকাছি। আগামীকাল তলানিতে পৌঁছতে পারে বলে আশা
সিইও দপ্তরের পদস্থ কর্তারা। উল্লেখযোগ্য, ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বি এল ও অ্যাপ এ রোলব্যাক অপশন পাওয়া যাবে। তারপর ওই অপশন বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বিএলও -দের পুনরায় চেকিংয়ের জন্য শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে যার জেরে রাতারাতি তথ্যের ভোলবদল হয়েছে বলে মনে করছেন পদস্থ আধিকারিকরা।

কেন এমনটা হল? উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব না ইচ্ছাকৃত ভুল? দ্বিতীয় সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছেন পদাধিকারীরা। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া সত্বেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিএলও-রা ” জেনেবুঝে ” পদ্ধতিগত ভুল করছেন বলে জানিয়েছেন কর্তারা। বিশেষ করে কমিশনের নিযম অমান্য করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের কাজে লাগাতে গিয়ে বহু ক্ষেত্রেই এধরনের ” এরর ” হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পদস্থ কর্তারা। সেক্ষেত্রে কড়া শাস্তির কোপে পড়তে পারেন বিএলও-রা? ইচ্ছাকৃত ত্রুটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিএলও-র চাকরি নিয়ে টানাটানি হওয়ার পাশপাশি পেনশন আটকে যেতে পারে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারাও রুজু হতে পারে। অবশ্য সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ” কাউকে শাস্তি দেওয়া কমিশনের লক্ষ্য নয়। ভুল-ত্রুটি শুধরে নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করাই মূল কাজ। তবে কেউ যদি কমিশনের নিয়ম ইচ্ছাকৃত ভঙ্গ করে এই কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।”
তবে ১১ ডিসেম্বর এসআইআর পর্ব শেষ হলে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কিনা সেদিকে নজর থাকবে।

Share with