বুথের ভিতরে জোড়া ক্যামেরায় লাইভ নজরদারি, স্পর্শকাতর কমপক্ষে ৩০ হাজার, বুধেই গণনাকেন্দ্র নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
কালীগঞ্জ মডেলে বিহারের এসআইআর সম্পন্ন হলেও
রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ মডেলের নকশা অনুসরণ করছে না কমিশন। আসন্ন নির্বাচনে ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। যদিও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও শন্তিপুর্ণ করতে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথের ভিতরে এবার থাকবে দুটি করে ক্যামেরা এবং বুথের বাইরে থাকবে একটি ক্যামেরা। এছাড়া বাকি বুথগুলোতে ভিতরে ও বাইরে একটি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো হবে সেখানেও থাকবে প্রতি ক্ষেত্রে একটি করে ক্যামেরা। এর পাশাপাশি কালীগঞ্জ মডেলেই থাকবে মোবাইল ভ্যান যার মাথায় লাগানো থাকবে একটি করে ক্যামেরা। আর বুথের ভিতর থেকে বাইরে, নাকা চেকিং থেকে মোবাইল ভ্যান সর্বত্রই ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে লাইভ ওয়েবকাস্টিং।
নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে এখনও প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় বাকি থাকলেও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রাথমিক ব্লু প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে বলে জানা গেছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে ইতিমধ্যেই কয়েক দফার বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নিরাপত্তায় স্পর্শকাতর, অতি স্পর্শকাতর, সংবেদনশীল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকার বুথের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বুথ নিরাপত্তা থেকে এলাকায় টহলদারির কাজে থাকবে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি, মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমেও নজরদারির কাজ চালাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্থাৎ ২০২১ ও ২০২৪ সালে বঙ্গের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে, ইভিএম, ভি ভি প্যাটের পর এবার গণনা কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও এগিয়ে রাখলো মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। সেই মোতাবেক রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৫০ টি গণনা কেন্দ্রকে চূড়ান্ত করতে পেরেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। বুধবার এই তালিকাই পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনে। কমিশনের তরফ থেকে চূড়ান্ত শীলমোহর দেওয়া হলেই রাজ্যের এই গণনা কেন্দ্রগুলিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কোন গণনা কেন্দ্রে কত রাউন্ড গণনা হবে তারও প্রাথমিক তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই বলে খবর।
কমিশনের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, বাংলার ভোটে কম দফায় সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করে মানুষকে তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতা দেওয়াই কমিশনের মূল লক্ষ্য। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের মতে, “এবারের নির্বাচন একটু অন্যরকম। ভোটারদের সাংবিধনিক অধিকার রক্ষায় কোনও আপোষ চলবে না। ” জানা গেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর রাজ্যে আসতে পারে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন কমিশন আগে থাকতেই সব কাজ সেরে রাখতে চাইছে। কারণ ফুল বেঞ্চ ফিরতেই মার্চের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন।

