ছাব্বিশের লক্ষ্যে ঘর গোছানো শুরু, রাজ্যে আধুনিক পি-৩ ব্র্যান্ডের ইভিএম ও ভিভিপ্যাট
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
এসআইআর প্রস্তুতি ও ভোটকর্মীদের পোর্টাল তৈরির পাশাপাশি এবার আধুনিক প্রযুক্তির ইভিএম বা ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন আসা শুরু হল রাজ্যে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ইসিআইএল-এর সদর দপ্তর হায়দরাবাদ থেকে আসতে শুরু করেছে ব্র্যান্ড নিউ পি-৩ সিরিজের কন্ট্রোল ইউনিট এবং ব্যালট ইউনিট। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের সব জেলায় পৌঁছে যাবে এই পি-৩ ব্র্যান্ডের নতুন ইভিএম ও ভিভি প্যাট।
বস্তুত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর এখন থেকেই সব প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে। যদিও রাজ্যে এসআইআর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তরে স্থানাভাব এবং কর্মী স্বল্পতা, ভিএল ও হিসেবে পর্যাপ্ত সরকারি কর্মীর অপ্রতুলতা, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পাওয়া নিয়ে সমস্যা, সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে স্বতন্ত্র দপ্তর হিসেবে গঠন করা নিয়ে রাজ্য সরকারের অনীহা বা দীর্ঘসূত্রিতা, আর্থিক বিষয়ের রাজ্য সরকারের মুখাপেক্ষিতা এসআইআর সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করেছে। এর মধ্যেই রাজ্যে নতুন ইভিএম আসা শুরু হয়েছে। রাজ্যে এই মুহূর্তে ইভিএম আছে ১,০৪,০১০ টি, ভিভিপ্যাট আছে ১,০৪,০০৬ টি। রাজ্যে এখন মোট বুথের সংখ্যা ৮০,৬৮১। এর ৩০ শতাংশ ইভিএম সংরক্ষিত রাখতে হবে, অর্থাৎ ২৪,২০৫। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রয়োজন (৮০,৬৮১+ ২৪,২০৫) মোট ১,০৪,৮৮৬টি ইভিএম। অন্যদিকে, একটি বুথে সর্বাধিক ১২০০ ভোটার, নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী
রাজ্যে নয়া প্রস্তাবিত বুথের সংখ্যা ৯৪,৪৯৭। এর ৩০% সংরক্ষিত রাখতে হলে সংযুক্ত হবে আরও ২৮,৩৫০ টি ইভিএম। অর্থাৎ, কমিশনের নয়া নিয়মে ছাব্বিশের নির্বাচনে ইভিএম প্রয়োজন হতে পারে (৯৪,৪৯৭ + ২৮,৩৫০) মোট ১,২২,৮৪৭টি এবং সময় সংখ্যক ভিভিপ্যাট। রাজ্যে নতুন প্রস্তাবিত বুথের সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় তৈরি করে ফেলেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। কয়েক দিনের মধ্যেই তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে নির্বাচন কমিশনে। আর নির্বাচন কমিশন সিলমোহর দিলেই তা বাস্তবায়িত হবে।যদিও সামনেই বিহারের বিধানসভা নির্বাচন থাকায় সেখানে রাজ্য থেকেই পাঠাতে হচ্ছে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট। তাই চলতি বছরের মধ্যেই ১,০৪,৮৮৬ টি ইভিএম ও ভিভিপ্যাট গুছিয়ে রাখতে চাইছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।

