চলতি মাসেই নতুন ঠিকানায় সিইও দপ্তর? তত্ত্বাবধানে নন ব্যাঙ্কিং কোম্পানি
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
কথায় আছে, ‘ ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়’। এই আপ্তবাক্য থেকে শিক্ষা নিয়েই রাজ্যের সিইও দপ্তর স্থানান্তরে সরাসরি কোনও সরকারি এজেন্সিকে নিয়োগ করতে চায় না নির্বাচন কমিশন। বরং এসআইআর প্রক্রিয়ার মাঝপথেই কোনও নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কর্পোরেশনের অধিনে থাকা সংস্থার তত্ত্বাবধানেই এই স্থানান্তরের কজ করাতে চায় কমিশন। তদনুযায়ী কোন সংস্থাকে কাজের বরাত দেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশনই। গঙ্গাতীরবর্তি কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের অধীন কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডের শিপিং কর্পোরেশনের অফিসেই সিইও দপ্তরকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মাপঝোকের কাজ শুরু হয়েছে নতুন ঠিকানায়। স্থানাভাব ও নিরাপত্তার অভাব এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার কারণে চলতি মাসেই সিইও দপ্তরকে স্থানান্তরিত করার তোড়জোড় চলছে বলে জানা গেছে।
প্রশ্ন উঠতে পারে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক এজেন্সি এধরনের কাজে ‘যোগ্য’ হওয়া সত্ত্বেও কেন নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কর্পোরেশনের অধিনস্থ সংস্থা বা কোম্পানিকে দিয়ে কাজ করানোর সিদ্ধান্ত? পদস্থ আধিকারিকদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন একটি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বহীন স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থা। তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনও বিতর্ক এড়াতে কেন্দ্র বা রাজ্য দুপক্ষ্কেই দূরে রেখে স্থানান্তরের কাজ করতে চায় কমিশন। সেক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট বা নিরপেক্ষতার বিতর্ক থেকে সুরাহা মিলতে পারে। সর্বোপরি, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে রাজ্যে ভোতের বুথগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাজ্যজুড়ে অভিন্ন বুথ পরিকাঠামো গড়ে তুলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে উদ্যোগি হয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এব্যাপারে রাজ্য পূর্ত দপ্তরের অধিনস্থ ম্যাকিনটোস বার্ণ-এর সঙ্গে চুক্তি করে সমীক্ষার কাজও সম্পূর্ণ হয়। অথচ আচমকাই নিজেদের অক্ষমতার কথা জানিয়ে কাজ থেকে সরে যায় ম্যাকিনটোস। এনিয়ে অনেক জলঘোলা হলেও অভিন্ন বুথ পরিকাঠামো ও তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজ থমকে যায়। পাশাপাশি একথাও মনে করিয়ে দেওয়া হযেছে যে সিইও দপ্তরকে স্থানান্তর করার ক্ষেত্রে আর্থিক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ সত্ত্বেও আংশিকভাবে সিইও দপ্তরকে আর্থিক স্বক্ষমতা দিয়েছে রাজ্য। স্বাভাবিকভাবেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না চেয়ে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কর্পোরেশনের অধিনস্থ সংস্থা বা কোম্পানিকে দিয়ে এই কাজ করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। আপাতত নির্বিঘ্নে দপ্তর স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করতে চায় রাজ্য সিইও দপ্তর। প্রসঙ্গত, এনবিএফসি সরাসরি সরকারি সংস্থা না হলেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অনুমোদিত এবং কোম্পানি আইন অনুযায়ী বিধিবদ্ধ হয়।

