হেডলাইন

দাঙ্গা-অশান্তি দমনে কমিশনের পথের কাঁটা ‘এক্স’!! কেরলে হল এফআইআর

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

নির্বাচনের সময় ভুল খবর বা ভুয়ো খবর রটিয়ে, উস্কানিমূলক বা প্ররোচনামুলক রটনার মাধ্যমে দাঙ্গা-অশান্তি সৃষ্টির ঘটনা নতুন কোনও বিষয় নয়। তাই হিংসাহীন নির্বাচনের লক্ষ্যে উস্কানিমূলক ভুয়ো খবর রুখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিগত নির্বাচনেও এজন্য নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তি শাখা ‘ফেক নিউজ’ চিহ্নিত করার কাজে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। কিন্তু যে সমাজমাধ্যমগুলিকে ব্যবহার করে এধরনের ভুয়ো অথচ উস্কানিমূলক বা অশান্তি তৈরির মত খবর প্রচারিত হয় সেই উৎসমখে যদি বন্ধ করা যায় তাহলে অশান্তিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হওয়া সম্ভব। সেকথা মাথায় নিয়েই নির্বাচনমুখী পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু ও কেরল এই চার রাজ্যের সিইও দপ্তর, সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসন, কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক ও নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে গত বুধবার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেটা, এক্স (পূর্বতন ট্যুইটার) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৯ এবং ৬৯ এ ধারার প্রস্তাবনা ও তার ব্যবহারিক গুরুত্ব ও শাস্তির বিধান নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী সময়কালে কোনও ধরণের পোস্ট এই মাধ্যমগুলিতে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে উল্লেখ করে এবং কর্তৃপক্ষগুলিকে আবেদন জানানো হয় যাতে তারা কোনওমতেই উস্কানিমূলক বা অশান্তি ছড়াতে পারে এধরনের কোনও পোস্ট গ্রাহ্য না করে। কেন্দ্রীয় আইন এবং ভারত সরকার ও কমিশনের আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে সমাজমাধ্যম কর্তৃপক্ষগুলি মান্যতা দিলেও ব্যতিক্রম শুধু ইলন মাস্কের মালিকানাধীন ‘এক্স’। কোম্পানির নিজস্ব গাইডলাইনের বাইরে কোনও রাজ্য বা দেশের নির্দেশ মানতে বাধ্য নায় এক্স কর্তৃপক্ষ বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন এক্স-এর ভারতীয় অ্যাটর্নি। অন্য সমাজমাধ্যম কর্তৃপক্ষ সহমত পোষণ করলেও এক্স নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। বুধবারের ওই বৈঠকের পরেই বৃহষ্পতিবার কেরলে এক্স-এ প্রচারিত একটি ভুয়ো খবরের ভিত্তিতে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয় যা অল্প সময়ের জন্য কেরলের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহষ্পতিবারই অশান্তি ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত করে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯ -এ ধারা অনুযায়ী এক্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে কেরল পুলিশ-প্রশাসন। ফলে নির্বাচনে দাঙ্গা-অশান্তি ঠেকাতে কিছুটা হলেও কমিশনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াল ‘এক্স ‘।

মূলত, ভারতের তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০ -এর ধারা ৬৯ (ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ডিভাইসের তথ্য মনিটরিং এবং ডিক্রিপশনের সাথে সম্পর্কিত ) এবং ৬৯এ ( জনসাধারণের অ্যাক্সেসযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ওয়েবসাইট ব্লক করার সাথে সম্পর্কিত ) সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং জনস্বার্থে যেকোনো অনলাইন কন্টেন্ট বা ওয়েবসাইট ব্লক করার ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। এই ধারার অধীনে সরকার ইন্টারনেটে তথ্য যাচাই, আটক বা ডিক্রিপ্ট করতে পারে। ধারা ৬৯-এ অনুযায়ী সরকার তদন্তকারী সংস্থাকে কোনো কম্পিউটার রিসোর্স থেকে তথ্য আড়ি পেতে শোনার, আটক করার বা ডিক্রিপ্ট করার নির্দেশ দিতে পারে।
যদি কোনও সামাজিক মাধ্যম বা ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম এই নির্দেশ অমান্য করে, তবে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের (Safe Harbour) সুবিধা বাতিল হতে পারে এবং জরিমানা বা কারাদণ্ডও হতে পারে।

Share with