হেডলাইন

দিল্লিতে বাহিনী বৈঠক, রাজ্যের জন্য ‘বিশেষ ওষুধ’ ‘ ! ইঙ্গিত সিইও-র

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য
” নির্বাচনী রোগ ” নির্ণয় করতে আজ (সোমবার) দিল্লিতে মেগা বৈঠক। নির্বচনমুখী রাজ্যগুলোর সিইও-দের সঙ্গে বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা ছাড়াও কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন বাহিনীর মডেল অফিসার উপস্থিত থাকবেন। মূলত নির্বাচনের জন্য রাজ্যগুলি কতটা প্রস্তুত, নির্বাচন পরিচালনার জন্য রাজ্য প্রতি কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বাহিনী কতটা পাওয়া যেতে পারে, প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র কত রয়েছে এবং সার্বিক পরিকাঠামো কি হতে পারে তা নিয়েই একটি রূপরেখা তৈরি হতে পারে এই বৈঠকে। বিগত দিনে নির্বাচনগুলোতে কত বাহিনী ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কিভাবে নির্বাচন পরিচালিত হয়েছিল সে বিষয়েও আলোচনা হবে এদিনের বৈঠকে। বৈঠকের ৪৮ ঘণ্টা আগেই পশ্চিমবঙ্গের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন ” যে রাজ্যে যেমন রোগ, তেমন ওষুধ আছে কমিশনের কাছে। ” এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় সোমবারের বৈঠকে রাজ্যগুলির নির্বাচনী প্রকৃতি বিচার বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় করতে চায় নির্বাচন কমিশন। তার ভিত্তিতেই রাজ্যগুলির নির্বাচনী রোগ সারাতে ” ওষুধ ” যোগান দেবে কমিশন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন গুলিতে কোন রাজ্যে কত বাহিনী মোতায়েন থাকবে, রাজ্যের বাহিনীর সঙ্গে কত পরিমান কেন্দ্রীয় বাহিনীর যোগান দেওয়া হবে তা নির্ধারিত হবে এই বৈঠকের রিপোর্টের ভিত্তিতেই। স্বাভাবিকভাবেই বাহিনীর পর্যাপ্ততা বুঝে নির্বাচন মুখী পাঁচ রাজ্যে কোথায় কত দফায় ভোট হবে তার প্রাথমিক আন্দাজ তৈরি করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। যদিও রাজ্যভিত্তিক কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে তা নির্ধারণে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকেই স্থির করবে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।

সূত্রের খবর অনুযায়ী , ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহেই কমিশনের ফুল বেঞ্চ আসতে চলেছে রাজ্যে। আর তারপরেই আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সোমবার থেকে প্রতি সপ্তাহে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।সোমবার ৫ জানুয়ারি থেকে প্রতি সপ্তাহে সব জেলাশাসকেরা রিপোর্ট পাঠাবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে। তারপর সেই রিপোর্ট পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনের কাছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশ কিছুটা আগে থেকেই
পদক্ষেপ শুরু করে দিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কমিশন যে যথেষ্ট ভরসা করছে না তা বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি সোমবার থেকেই রাজ্যে ২৫ টি নোডাল এজেন্সি কাজ শুরু করতে চলেছে। এই নিয়ে প্রত্যেক জেলায় জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার মানে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে যে কমিশনের আলাদা নজর রয়েছে তা বলাই যায়।
সব মিলিয়ে এসআইআর পর্বের প্রাথমিক ঝাপটা সামলে এবার নির্বাচনমুখী পাঁচ রাজ্যে মূল নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র ও রাজ্য দু-তরফেই। অবশ্য নির্বাচনী সংবেদনশীলতার নিরিখে আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরির থেকে অনেকটাই এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন যে নজিরবিহীন হতে চলেছে তার আগাম আভাস ইতিমধ্যেই দিয়েছেন রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। ভোটদান কেন্দ্র থেকে ভোটগণনা এমনকি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র গুলির পরিকাঠামো সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে লাইভ অ্যাকশন চায় নির্বাচন কমিশন। ভোটের বুথে যেমন লাইভ ওয়েবকাস্টিং থাকবে তেমনি ভোট গণনা কেন্দ্রেও ব্যবস্থা রাখা হবে যা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হবে সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে। এই লাইভ স্ট্রিমিং এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে দিল্লির নির্বাচন সদনও। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তাৎপর্য কতটা আলাদা তা বোঝাতে সিইও’র ব্যাখ্যা ” পশ্চিমবঙ্গেই শুধুমাত্র আট দফা নির্বাচন হয়। অন্য কোন রাজ্যে এরকম হয় না। এখানেই প্রাক নির্বাচনি বা নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসে মৃত্যু হয়।” একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচন কেন নতুন নজির তৈরি করতে পারে তা বোঝাতে সিইও’র বক্তব্য ” অন্য রাজ্যে যদি এক দফায় নির্বাচন হতে পারে তাহলে পশ্চিমবঙ্গেও সেটা সম্ভব বলে আমার মনে হয়। আর যদি সেটা করা যায় তাহলে বলা যাবে যে নির্বাচন কমিশন কিছু কাজ করলো। কত বাহিনী লাগবে বা কত দফা হবে তা নিয়ে আমরা এখনো কিছু বলিনি। দিল্লির বৈঠকের পর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে। ” তবে বাহিনী নিয়ে নয় কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, তবে রাজ্যে এক দফায় নির্বাচন করতে হলে পর্যাপ্ত নির্বাচন কর্মী মিলবে কি? উত্তরে সিইও দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকের মতে।         “দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কর্মীসঙ্কট হতে পারে, তবে বাকি জেলায় কাজ চালানো সম্ভব হবে। তবে এক দফায় নির্বাচন হলে সবচেয়ে সুবিধা হবে সিইও দপ্তরের। অতীত আট দফা বা বহু দফার নির্বাচনে দপ্তরের কর্মীদের কাজের চাপ দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই একথা বলাই যায়। ” যদিও মুখ্যমন্ত্রী থেকে রাজ্যের শাসকদল যেভাবে এসআইআর নিয়ে কমিশনের বিরোধিতা বা সমালোচনা করছে এবং নানাভাবে কমিশনের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে তা নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও সরাসরি সরকারি কর্মীদের সহযোগিতার কথা মেনে নিয়েছেন সিইও। বরং তাঁর যক্তি “সরকার কারা ? সেটা আগে বুঝতে হবে। সরকার একটা দোকান বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সংবিধানের ১৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও মন্ত্রী বা জনপ্রতিনিধি কোনও সরকারি নির্দেশিকা জারি করতে পারেন না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকেন ঠিকই কিন্তু সরকারে তাঁদের কোনও ‘অস্তিত্ব মূল্য’ বা
‘এন্টিটি ভ্যালু’ থাকে না। নীতি নির্ধারণ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা থাকলেও তাঁরা হলেন “অস্থায়ী”। আর যারা প্রকৃত সরকার বা সরকারি কাজের বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের দেশব্যাপী ভিত্তি আছে, তাঁরাই স্থায়ী। তাঁরাই সরকার। তাই ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দেওয়া না হলেও বিএলও-দের কষ্ট করে কাজ করতে হয়েছে ঠিকই কিন্তু কিছুই থেমে থাকেনি। বরং সরকারি খরচ কিছুটা লাঘব হয়েছে।”

Share with