হেডলাইন

এবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনারদের দিল্লিতে ডাক নির্বাচন কমিশনের, রাজ্যের অংশগ্রহণে সংশয়

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

১২ রাজ্যের এসআইআর পর্বের মধ্যেই এবার রাজ্যের নির্বাচন কমিশনারদের ‘ভোটের পাঠ’ দিতে দিল্লিতে ডাক নির্বাচন কমিশনের।
চলতি বছরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এর উদ্যোগ নেওয়ায় জাতীয় ও রাজ্যস্তরে আইনি ফ্রেমওয়ার্কে, ভোটার তালিকা তৈরিতে এবং নয়া প্রযুক্তির ব্যবহারে সমন্বয়সাধনের লক্ষেই এই উদ্যোগ বলে কমিশনের পদস্থ কর্তারা জানালেও
এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলতে পারে অবিজেপি রাজ্যগুলি বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পৌরহিত্যে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এই সম্মেলন আয়োজিত হবে। যেখানে
রাজ্য নির্বাচন কমিশনারদের একজন করে আইনি বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি বিশারদ নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এই সম্মেলনে
দেশের ২৬ জন সিইও-কেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আড়াই দশক পর রাজ্য তথা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে এধরনের সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে এই মুহূর্তে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে কোন স্থায়ী নির্বাচন কমিশনের নেই। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজিবা সিনহা যার জন্য নির্বাচন কমিশনার পর থেকে অবসর নেওয়ার পর নতুন করে কাউকে এই পদে নিযুক্ত করেনি রাজ্য। এমতাবস্থায় কমিশন-রাজ্য চরম সংঘাতের আবহে পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে এই সম্মেলনে কেউ প্রতিনিধিত্ব করেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। করণ, কমিশনের এই আমন্ত্রণ নিয়ে রাজ্যের কিছু বক্তব্য থাকতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীরা।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যোগ্য ভোটারের জন্য নির্বাচনী আইন বা বিধি নিয়ে আলোচনা, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল প্লাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, ইভিএমের নয়া প্রযুক্তি, সংবিধান সম্মতভাবে ভোটার তালিকা তৈরি ও নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা, নির্দিষ্ট আইনের সংস্থান অনুযায়ী নির্বাচনী পদ্ধতির পরিচালনা ও পরিকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার করা নিয়েই এই সম্মেলনের মূল বিষয়।

মূলত, রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সংবিধানের ৭৩ এবং ৭৪ সংশোধনের মাধ্যমে রাজ্যে রাজ্যে নির্বাচন কমিশন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। ‘৯৪ সাল থেকে পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচন পরিচালনার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনগুলি সংবিধান স্বীকৃত স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে কাজ করে। সেক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকাকেই মান্যতা দেওয়া হয়। ইভিএম বা ব্যালট বক্সের জন্য জাতীয় সাংবিধানিক সংস্থার সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করেই চলে রাজ্যের সাংবিধানিক সংস্থা। শেষবার ১৯৯৯ সালে জাতীয় ও রাজ্যস্তরের এই সাংবিধানিক সংস্থার যথাযথ সমন্বয় রক্ষার জন্য এধরনের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।

Share with