হেডলাইন

এডিজি আইন-শৃঙ্খলাকে কড়া ভর্ৎসনা, ” চা পে চর্চায়” ডেকে চার এজেন্সিকে কড়া বার্তা জ্ঞানেশ কুমারের

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘ চা পে চর্চায় ‘ ডাক পেলেন কারা ? সোমবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকে মূলত চারটি এজেন্সিকে এই চায়ের বৈঠকে টাকার কথা জানিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কেন আলাদা করে
‘ চা পে চর্চা ‘ ? কারণ জ্ঞানেশ কুমার যাদের কাজে অসন্তুষ্ট হন তিনি তাদেরকে আলাদা করে বৈঠকে ডাকেন এবং বিশেষ বার্তা দেন। সোমবারের বৈঠকে মূলত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক, রাজ্যের আবগারি দপ্তর, রাজ্যের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো এবং কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের চক্ষুশূল হয়েছেন বলে খবর।
” নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আর দেড় মাস এটা ভাবার কারণ নেই। প্রয়োজনে এমন ব্যবস্থা করা হবে যেখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় থাকবে না ” কলকাতায় এসে বিভিন্ন এজেন্সি সহ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সরাসরি এই মন্তব্য করেছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিশেষ করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বিনীত গোয়েলকে যথেষ্ট ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। রাজ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের কাজে কোন গতি নেই কেন ? নিজে এডিজি আইনশৃঙ্খলা পদমর্যাদার অফিসার হয়ে কি ভূমিকা পালন করেছেন ? ফুল বেঞ্চের এই প্রশ্নের উত্তরে বিনীত গোয়েল রাজ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কোনো অ্যাডভাইজারি বোর্ড না থাকার দোহাই দিতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করেন। তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন
” কোনও অজুহাত দেবেন না। এডভাইজারি কেউ যদি না থাকে তাহলে কিভাবে কাজ করতে হবে তা আমি আপনাকে বুঝিয়ে দেব। আপনি চুপ করে বসে পড়ুন। এরকম চললে আপনাকে চা বৈঠকে ডাকতে হবে।”

শুধু বিনীত গোয়েল বা নারকটিক কন্ট্রোল ব্যুরো নয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনের ধমক খেতে হয়েছে রিজার্ভ ব্যাংকের কর্তৃপক্ষকেও। কালো টাকা বা বেআইনি টাকার নিয়ন্ত্রণ কেন করা হচ্ছে না অথবা বাজারে এখনো কি ভাবে কালো টাকা অথবা বেহিসাবি টাকা ছেয়ে রয়েছে তার জবাব চায় ফুল বেঞ্চ। কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের জবাব “আমাদের কিছু করার নেই”। এই উত্তর শুনে বেজায় চটে যান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। রিজার্ভ ব্যাংক কিভাবে কাজ করবে সেটাও তাহলে শিখিয়ে দিতে হবে ? পাল্টা ধমক জ্ঞানেশ কুমারের। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে বেআইনি মদ পাচার হচ্ছে বা সাপ্লাই হচ্ছে তা নিয়ে আবগারি দপ্তরকে এক হাত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।। বিশেষ করে রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি মদের যোগান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়ে রাজ্যে যাতে ইতিমধ্যেই বেআইনি মত সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ আনা যায় তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আকাশপথে বা বিদেশ থেকে বেআইনি সোনা টাকা অথবা মাদক বিমানবন্দরের মাধ্যমে কিভাবে রাজ্যে ধুকছে এবং তার নিয়ন্ত্রণ করা কেন সম্ভব হচ্ছে না তা জানতে চায় কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এ ব্যাপারে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যে কমিশনের নজরে রয়েছে সে কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন জ্ঞানেশ কুমার। একাধিক এজেন্সি সহ বিভিন্ন পুলিশ কর্তা বা এজেন্সি কর্তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন ” দ্রুত এই পরিস্থিতির বদল না হলে কেউ রেহাই পাবে না।” মূলত ” কথা কম, কাজ বেশি ” এই নীতিতে বিশ্বাসী জ্ঞানেশ কুমার দফায় দফায় বৈঠকে এই বার্তা দিতে চেয়েছেন সে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য যেকোনো মূল্যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না নির্বাচন কমিশন।

Share with