এনডিএ শরিক পরিচয়েও হল না শেষ রক্ষা, কমিশনের খাতায় বাদ পড়ল ঘিসিংয়ের জিএনএলএফ
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে হিয়ারিংয়ে অমিত শাহ-এর নাম নেওয়া থেকে এনডিএ শরিক পরিচয় দিয়েও রেহাই মিলল না। রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের খাতা থেকে নাম মুছে গেল দার্জিলিংয়ের একদা দোর্দন্ডপ্রতাপ সুভাষ ঘিসিংয়ের দল জিএনএলএফ বা গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট। দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ৪৭৪টি রেজিস্টার্ড অথচ অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলের নাম নির্বাচন কমিশনের খাতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জিএনএলএফ, কামতাপুরি পিপলস পার্টিসহ পশ্চিমবঙ্গের ১২টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। কেন এমন হল? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একটানা ৬ বছর কোনও নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া, একটানা তিন বছর দলের অথবা নির্বাচনী কাজের হিসেব অডিট না করা, কমিশনের বিধি মেনে দলীয় অফিস যথাযথ না থাকা ইত্যাদি বিবিধ কারণে ৪৭৪ টি রাজনৈতিক দলের নাম কমিশনের খাতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ৯ আগস্ট প্রথম দফায় ৩৩৪টি রাজনৈতিক দলের পর গত ২ মাসে মোট ৮০৮টি রাজনৈতিক দলের নাম কমিশনের খাতা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে আরও ৩৫৯টি রাজনৈতিক দল একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে পাইপলাইনে রয়েছে। যেহেতু নির্বাচন কমিশনের খাতায় কোনও রাজনৈতিক দলের নাম নথিভূক্ত থাকলে সেই রাজনৈতিক দল করছাড় থেকে একাধিক সুযোগ-সুবিধা পায়। সেকারনেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন কমিশন রেজিস্টার্ড অথচ অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলি কমিশনের বিধি কতটা মেনে চলছে তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। আর সেই কাজ করতে গিয়েই আপাতত দেশের ৮০৮টি এধরনের রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেছে কমিশন। তবে নিজেদের কৃতকর্ম শুধরে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলগুলি অবশ্য এক মাসের মধ্যে কমিশনের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানতে পারবে।

