হেডলাইন

এফআইআরের পাল্টা এফআইআর হুঁশিয়ারি, “ম্যালিশিয়াস প্রসিকিউশন ” চান সিইও

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

এস আই আর পর্ব যত এগোচ্ছে ততই রাজ্য-কমিশন সংঘাত চরমে। এবার সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের নামে থানায় অভিযোগ, হতে পারে এফআইআর। পুরুলিয়ার পারা থানার এই ঘটনা নিয়ে যেমন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে তেমনি পাল্টা পুলিশের বিরুদ্ধে ম্যালিশিয়াস প্রসিকিউশনের
(Malicious Prosecution) অভিযোগ তুলেছে কমিশন।
সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন ” পুলিশ যদি এফআইআর রুজু করে তাহলে পুলিশকে আগে প্রমাণ করতে হবে যে জ্ঞানেশ কুমার ও মনোজ আগরওয়াল এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। অন্যথায় অভিযোগকারী ও পুলিশের বিরুদ্ধে ম্যালিশিয়াস প্রসিকিউশনের পাল্টা অভিযোগ এনে এফআইআর করা হবে।” অর্থাৎ, কোনো কারণ বা ভিত্তি ছাড়া, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা (ফৌজদারি বা দেওয়ানি) দায়ের করা, যা সেই ব্যক্তির ক্ষতি সাধন করে বলে ধরে নেওয়া হয় ম্যালিশিয়াস প্রসিকিউশনের মামলায়।
সিইও-র সরাসরি প্রশ্ন ” যারা ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে নির্বাচনের কাজে বাধা ও জালিয়াতি করেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে রাজ্য এফআইআর দায়ের না করলেও সাংবিধানিক পদাধিকারীদের ব্যক্তিনামে এফআইআর করার মতলব কি ?” গোটা বিষয়টিকে চোরের মায়ের বড় গলা বলেও কটাক্ষ করেন ক্ষুব্ধ সিইও।

অভিযোগ, এসআইআর পর্বের শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর আতঙ্কের কারণে রেললাইনে ঝাঁপ দিয়েছেন পুরুলিয়ার পারা থানার বাসিন্দা এক বৃদ্ধ ভোটার। তাঁর দেহও উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের ছেলে এসআইআর আতঙ্কের অভিযোগ তুলে বাবার মৃত্যুর জন্য সরাসরি জ্ঞানেশ কুমার ও মনোজ কুমার আগরওয়ালের নামে অভিযোগ করেন। আর এতেই বেজায় চটেছেন সিইও। তাঁর মতে, সংসদ আইনের ১৬ নম্বর ধারা এমনকি অনুযায়ী কোনও সরকারি পদাধিকারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া fir করা যায় না। বিশেষ করে সিইসি বা সিইও-র মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে লোকপাল আইনের বিধানকে মান্যতা দিয়ে মামল করতে হবে। বরং সরকারি কজে বাধা দেওয়া, নির্বাচনের কাজ ব্যাহত করা ইত্যাদি একাধিক অভিযোগ করার কথাও জানান তিনি। উল্লেখযোগ্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরনো অভিযোগ ফের খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ঠিক তখনও লোকপাল আইনের বর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন সিইও। মনোজবাবুর সাফ কথা
” দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিযুক্ত। একজন সিইও রাষ্ট্রপতি মনোনীত ও নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিযুক্ত। সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আমার কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশন। ফলে কমিশনের অনুমতি ছাড়া fir করা সম্ভব কিভাবে? ” এফআইআর -এর পাল্টা এফআইআর হুঁশিয়ারি দিয়ে সিইও-র বক্তব্য ” কাজের কজ না করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য এইসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।” কমিশনও সেক্ষেত্রে পাল্টা পদক্ষেপ করবে বলেও জানান মনোজবাবু।

Share with