হেডলাইন

এপ্রিলের শেষ দশ দিনে রাজ্যে তিন দফায় ভোট ?ভোট ঘোষণার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

প্রায় ট্রাডিশন মেনেই রবিবার ১৫ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সহ নির্বাচন মুখী পাঁচ রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। সুতরাং, পশ্চিমবঙ্গে ৬০ লক্ষ ৬ ৭৫ বিছালা দিন ভোটারের ভোট ভাগ্য ঝুলিয়ে রেখেই ভোট ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা তারপরই দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে পাঁচ নির্বাচনমুখী রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট ও প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এই পরিস্থিতিতে যে প্রশ্নটি অনিবার্য আট দফা বা সাত দফার নির্বাচনী ট্রাডিশন কত দফায় পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনা করতে চায় নির্বাচন কমিশন ? কমিশনের বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ১৫ মার্ চ ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী আদর্শ আচরন বিধি চালু করা হলেও এপ্রিলের শেষ ১০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হতে চলেছে। সূত্রের খবর, তিন দফায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রথম দফা ২২ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফা ২৬ এপ্রিল এবং তৃতীয় দফা ৩০ এপ্রিল। গত বিধানসভা নির্বাচনী গণনার দিন ধার্য হয়েছিল ২ মে। এবারের নির্বাচনে ভোট গণনা হতে পারে ৩ মে। মূলত, প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ, দ্বিতীয় দফায় রাঢ় বঙ্গ এবং তৃতীয় তথা শেষ দফায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভোটপর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা। আগামী ৭ মে নতুন সরকার গঠনের বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা হওয়ার কথা। যেহেতু রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ৭ মে শুরু হয়েছিল তদনুযায়ী অষ্টাদশ বিধানসভার প্রক্রিয়া ৭ মে -র মধ্যেই শুরু করতে হবে।
যেহেতু ৬০ লক্ষ্যের বেশি বিচারাধীন ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বিবেচনাধীন তাই ভোট ঘোষণা পিছিয়ে যেতে পারে এমনকি বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে তার পর ভোট ঘোষণা হবে এমন ধারণাও রাজনৈতিক মহলে তৈরি হলেও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে রবিবার বিকেল চারটের সময় পশ্চিমবঙ্গ তামিলনাড়ু কেরালা আসাম ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ঠ প্রকাশ করা হবে।রাজ্যে টিম দফার ভোট হলে মোট কত বাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে ?

কমিশনের পদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন তিন দফায় ভোটের জন্য সর্বাধিক ১৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগতে পারে। এবারে প্রয়োজনে তার বেধি বাহিনী পাঠানো হতে পারে রাজ্যে। সঙ্গে রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ তো থাকছেই। তবে বাহিনীকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে যাতে কাজে লাগানো হয়। সে ব্যাপারে এবার নানাবিধ পদক্ষেপ করেছেন নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণা অনেক আগেই রাজ্যে মোট 480 কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বিভিন্ন জেলায় নিযুক্ত করা হয়েছে, যারা মূলত রাজ্যের ৮০ হাজার ৭১৯ বুথ এলাকায় ভোটারদের নির্ভয় ভোটদানের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস জোগানোর কাজ করেছেন এবং নির্ভয়ে ভোটদানের জন্য শান্তির শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রক্রিয়া চালু করেছেন। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ নির্বাচনমুখী রাজ্যে কমিশনের ফুল বেঞ্চ প্রয়োজনীয় বৈঠক করেছে। প্রাক নির্বাচনী পর্ব এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন সামগ্রিক ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা বিচার-বিশ্লেষণ করে অবশেষে পাঁচ রাজ্যের ভোট ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়ে দিয়েছেন ” পশ্চিমবঙ্গে এবার হিংসা মুক্ত নির্বাচন পরিচালিত হবে এবং তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে।” ইতিমধ্যেই রাজ্য সিইও দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে বিচারাধীন ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতে পারে।

Share with