এসআইআর আবহে কমিশনের চোখে দক্ষিণকে টেক্কা দিল উত্তর
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
যত কাণ্ড দক্ষিণে, আপাত নিরীহ উত্তর।
এসআইআর আবহে দুই বঙ্গকে এভাবেই চিত্রিত করছেন নির্বাচনী কর্তারা। একদিকে যখন এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে ধুন্ধুমার, বিধায়ক থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বিডিও অফিস থেকে শুনানিকেন্দ্রে ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ, লাঠালাঠি, কুকথা-হুঁশিয়ারির ফুলঝুরি অন্যদিকে তুলনায় সহযোগী মানসিকতা নিয়ে দলে দলে সহনশীল মানুষ শুননিকেন্দ্রের লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। রাজ্যের দুই প্রান্তের এই বৈপরীত্য চাক্ষুষ করে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত। চার দিনের উত্তরবঙ্গ সফর শেষ করে ফিরে সুব্রতবাবু জানালেন
” তুলনা না করেও এটা বলাই যায় দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গের পরিবেশ রীতিমতো ভালো। উত্তরবঙ্গের মানুষ যথেষ্ট সহনশীল, বেশি আত্মসচেতন এবং বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন।”
গোটা রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশাল রোল অবজার্ভার হিসেবে দক্ষিণের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর ও দুই বর্ধমানের এসআইআর প্রক্রিয়া, শুননিকেন্দ্রের পরিস্থিতি আগেই খতিয়ে দেখেন সুব্রতবাবু। এবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ির নির্বাচনী কাজ খতিয়ে দেখেন তিনি। তিনদিনে প্রায় ১৭-১৮ টি কেন্দ্র পরিদর্শন করে তিনি সাধারণ মানুষের সহনশীল মানসিকতার যেমন সন্ধান পেয়েছেন তেমনি সুপরিকল্পিত উপায়ে
জেলা প্রশাসনগুলি এসআইআর প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘক্ষণ ধরে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েও বিরক্তির বদলে উত্তরের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা স্বচক্ষে দেখেছেন তাতে তিনি যে অবশ্যই খুশি তা একবাক্যে মেনে নিয়েছেন কমিশনের এই অন্যতম শীর্ষকর্তা। চলাফেরায় বিশেষভাবে সক্ষম অথচ বাড়ি থেকে নয় শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েই নিজের নথি নিজে জমা দেবেন এধরনের বহু মানুষের দেখা পেয়ে তাঁদের এই মানসিকতা ও উদ্দীপনাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সুব্রত গুপ্ত। উত্তরবঙ্গের বহু শুনানিকেন্দ্রে ছাউনি খাটিয়ে মানুষের দাঁড়ানোর ব্যবস্থা বা বয়স্কদের জন্য যেমন বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। সুব্রত গুপ্ত’র আশা, ” যেভাবে উত্তরবঙ্গ দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে তাতে চলতি মাসের মধ্যেই তাঁরা শুনানির কাজ প্রায় শেষ করতে পারবেন। “

