হেডলাইন

এসআইআর শেষেই কি ঠিকানা বদল রাজ্য সিইও দপ্তরের ?

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

এসআইআর পর্ব চলার মাঝেই কি নতুন ঠিকানা পেটে চলেছে রাজ্য সিইও দপ্তর? মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-দের নিয়ে বৈঠক শেষে আলিপুর যাওয়ার পথে আচমকা গঙ্গা তীরবর্তী শিপিং কর্পোরেশনের অফিসে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে ঢুকে পড়েন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। সঙ্গে ছিলেন কমিশনের অন্যান্য পদাধিকারী সহ সিইও দপ্তরের সমস্ত আধিকারিকরাও। হঠাৎ করে কেন শিপিং কর্পোরেশনের অফিসে এলেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা? বেশ কিছুদিন ধরেই চর্চা চলছিল যে রাজ্য সিইও দপ্তর এর ঠিকানা বদল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশেষে নতুন ঠিকানা পরিদর্শনে শিপিং কর্পোরেশনের দপ্তরে এলেন সিইও সহ নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা। শিপিং কর্পোরেশনের অফিসে ঢুকতেই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জ্ঞানেশ ভারতী জানান ” খুব সুন্দর অফিস। গঙ্গার পাশে পরিবেশটাও মনোরম।” পার্কিং বা গাড়ি রাখার আলাদা বন্দোবস্ত দেখেও খুশি হন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। সিইওকে সঙ্গে নিয়েই পরিদর্শকরা সোজা চলে যান থার্ড ফ্লোর বা চারতলায়। যেখানে গোটা একটি ফ্লোর ফাঁকা পড়ে রয়েছে। শুধু ফোর্থ ফ্লোর নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ এই শিপিং কর্পোরেশনের অফিসে সেকেন্ড ফ্লোর সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে। ফুট ফ্লোরের কাচের জানালা থেকে সরাসরি গঙ্গার দৃশ্য এক পলকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেন সিনিয়ার ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিজেও। তাহলে কি ঠিকানা বদল হতে চলেছে নেতাজী সুভাষ রোডের বামার লরি বিল্ডিং এর সিইও দপ্তরের? এখনই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে নারাজ সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার এমনকি সিইও নিজেই। তবে নিজের দপ্তরের কাজ চালানোর জন্য এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে গঙ্গা তীরের এই কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ভবনের দপ্তরটি যে তাদের মনে ধরেছে তা বলাই বাহুল্য। মাসখানেকের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর।

প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের নির্বাচনের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের সিইও দপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে পৃথক নির্বাচন দপ্তরে পরিণত করার জন্য রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। যদিও এখনো পর্যন্ত সে ব্যাপারে কাজের কাজ কিছু হয়নি। পরবর্তীকালে রাজ্যে এসআইআর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন ও এস আই আর এই দুইয়ের চাপে যে বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন করতে হবে তা বুঝে নেতাজি সুভাষ রোডের বর্তমান সিইও দফতরকে আরও বড় পরিসরে নতুন ঠিকানায় নিয়ে যেতে উদ্যোগী হন সিইও। নেতাজী সুভাষ রোডের বর্তমান সিইও দফতরে যেমন যথাযথ অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নেই তেমনি দপ্তরের নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের যথাযথ বন্দোবস্ত নেই। তার উপর নির্বাচন পর্ব শুরুর আগে বিভিন্ন ভিভিআইপি দপ্তরে এলে তাদের গাড়ি ও সঙ্গে আসা নিরাপত্তারক্ষী সহ অন্যান্যদের জন্য পৃথক বন্দোবস্ত করার মতো কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। সে কথা মাথায় রেখেই নতুন ঠিকানা খুঁজতে উদ্যোগী হয় সিইও দপ্তর। জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে রাজ্যের মুখ্য সচিব কে ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। প্রাথমিকভাবে বিবাদীবাগে কলকাতা টেলিফোন এর সদর দপ্তরের ভবনে ঘর দেখার কাজ শুরু হয়। এরপর পার্ক স্ট্রিট লাগোয়া হাঙ্গার পোর্ট ট্রিটের বিএসএনএল ভবনে অফিস স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা পরবর্তীতে মনোনীত হয়নি দপ্তরের আধিকারিকদের। এরই ফাঁকে গঙ্গা তীরবর্তী স্ট্র্যান্ড রোডের শিপিং কর্পোরেশনের অফিসে দুটি ফাঁকা ফ্লোরের খোঁজ পায় সিইও দপ্তর। সেই মোতাবেক পরিদর্শন করেন সিইও দপ্তরের আধিকারিকরা। সমস্ত আধিকারিকদের পরামর্শ এবং পছন্দ বুঝে প্রিয় নিজে শিপিং কর্পোরেশনের অফিস পরিদর্শন করেন এবং এই ঠিকানায় সিইও দপ্তরকে স্থানান্তরিত করার জন্য রাজ্য সরকারকে ফের চিঠি লেখেন সিইও। কারণ দপ্তর স্থানান্তর করা থেকে তার জন্য যে আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন তা রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরকে অনুমোদন দিতে হয়। একাধিকবার অনুরোধ জানানোর পরেও শেষ পর্যন্ত রাজ্যের অনুমোদন না মেলায় গোটা উদ্যোগ থমকে যায়। এ ব্যাপারে দু-একবার সিইও মনোজ আগরওয়াল বিরক্তি প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত সিও দপ্তর আনান্তরের জন্য তিনিও হাল ছেড়ে দেন। এখন রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া প্রায় মধ্যগগনে। এস আই আর পর্ব মিটটেই শুরু হবে বিপুল কর্মযজ্ঞ অর্থাৎ রাজ্যের ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটারের আবেদন স্ক্রুটিনি করার কাজ। একইসঙ্গে বিভিন্ন তথ্যের রেকর্ড রাখতে হবে সিইও দপ্তরকে যার জন্য প্রয়োজন প্রচুর কর্মী এবং আরো বেশি জায়গা। বর্তমান সিইও দপ্তরে যার বড়ই অভাব। নিজের তৃতীয় বারের সফরে এসে পরিস্থিতি চাক্ষুষ করে ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে প্রিয় দপ্তরে জায়গার অভাবের কথা বিবেচনা করেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী নিজেই। এপ্রসঙ্গে সিইও দপ্তর কি কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারকে জানান সিইও। একইসঙ্গে গঙ্গা তীরবর্তী শিপিং কর্পোরেশনের এই অফিসের কথাও জানানো হয় জ্ঞানেশ ভারতীকে। মূলত তাঁরই ইচ্ছায় আলিপুরের দ্বিতীয় বৈঠক করতে যাওয়ার পথে আচমকা শিপিং কর্পোরেশনের অফিস পরিদর্শন করতে যান জ্ঞানেশ ভারতী। স্বাভাবিকভাবেই সিইও দপ্তরের কাজের সুবিধার জন্য তাদের ঠিকানা বদলের প্রসঙ্গটি অনিবার্য হয়ে ওঠে।

Share with