হেডলাইন

এসআইআর স্থ্গিতের আবেদনে খোলা চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

নির্বাচনী গণতন্ত্রের পরিকাঠামো রক্ষায় অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করে নির্বাচক থেকে নির্বাচন কর্মীদের প্রতি নির্বাচন কমিশনকে মানবিক হওয়ার আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে
এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিকল্পনার অভাব, অব্যবস্থা এবং সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগ তুলে প্রথম থেকেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নির্বাচনী গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করেছে বলে জানিয়ে বৃহস্পতিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে যেমন রাজ্যের সিইও দপ্তরকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তেমনি এই প্রক্রিয়ার মূল স্তম্ভ যারা সেই বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের অসহায়তার কথা উল্লেখ করে তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু
” হোম ওয়ার্ক নেই ” বলে কমিশনকে কটাক্ষ করেছিলেন। বিহারে এসআইআর করা হবে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে গত ২১ জুলাই এর মঞ্চ থেকেই এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করার ডাক দেওয়ার পর এবার বামেদের থেকে আরও একধাপ সুর চড়িয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি, বিএলও সহ সরকারি কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি ও পরিকল্পনাহীন পদ্ধতির অভিযোগ তুলে
এসআইআর এর মূল উদ্দেশ্য সাধন হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এসআইআর সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে গলদ, বাধ্যতামূলক তথ্য প্রমাণ নিয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাব, বিএলও সহ সরকারি কর্মীদের কাজের পদ্ধতিতে অবিবেচক মানসিকতার প্রভাব গোটা প্রক্রিয়ার গঠনগত দিকটিকে দুর্বল করেছে। নির্বাচন কমিশন বিএলওদের উপর চাপ সৃষ্টি করে বা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে শাস্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে কাজ উদ্ধার করতে চাইলেও বিএলও দের পাশেই দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, ” প্রবল চাপ সৃষ্টি করে বিশাল কাজের ভার ঘাড়ে চাপানো সত্ত্বেও বিএলও-রা যেভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন তা প্রশংসাযোগ্য ” বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবাস্তব কাজের চাপ, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সাহায্য ছাড়াই কাজ শেষের জন্য বিএলও-দের যে দুঃসাধ্য টাইমলাইন দেওয়া হয়েছে তা গোটা প্রক্রিয়াকে দিনের পর দিন জটিল করেছে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি এই জটিলতা নির্বাচনী গণতন্ত্রকেও আঘাত করেছে বলে দাবি মমতার। বিশেষ করে ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি ও সংগ্রহ করার পর ডেটা এন্ট্রি ও ডিজিটাইজড করার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সার্ভার সমস্যা, বারবার তথ্যের বিভ্রাট বিএলও-দের কাজকে আরও জটিল করেছে বলেও জানান তিনি। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া সাধারণ সরকারি কর্মীদের শাস্তির ভয় দেখিয়ে মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ বাড়িয়ে বিএলও-দের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এর ফলে নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ যেমন ব্যাহত হবে তেমনি বৈধ ভোটারদের দুর্ভাগ্য নিয়েও নিশ্চয়তা থাকতে পারে না বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। বুথ লেভেল অফিসারদের কাজে সাহায্য করার বদলে বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝে বা অস্বীকার করে শাস্তির খাঁড়া ঝুলিয়ে দেওয়া নিয়ে সিইও দপ্তরের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে এই এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত রবি মরশুমে গ্রামবাংলায় ধান রোয়ার আদর্শ সময় যখন বাংলার কৃষকরা মাঠে প্রান্তরে ধান রুইতে ব্যস্ত থাকেন। একই সঙ্গে আলু চাষীরাও এই সময়ে মাঠের কাজে ব্যস্ত।। এই পরিস্থিতিতে মাঠ ছেড়ে এসআইআর নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই তাঁদের বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। রাজ্যে এসআইআর-এর প্রভাবেই একাধিক বিএলও সহ কিছু ভোটারের আত্মহত্যার ঘটনা গোটা প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে তুলেছে বলেও মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির বিচারে অবিলম্বে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পদ্ধতি প্রণয়ন করে ও পর্যাপ্ত টাইমলাইন দিয়ে নির্বাচক ও সরকারি কর্মীদের স্বার্থরক্ষায মানবিক হয়ে সার্বিকভাবে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Share with