হেডলাইন

এসআইআরে এবার বিএলও-বিএলএ যৌথ প্রস্তাবনা, রক্ষাকবচের সুযোগ পাবেন বিএলও ?

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

বিএলও-দের সঙ্গে এবার কমিশনের স্ক্যানারে বিএলএ বা বুথ লেভেল এজেন্টরাও।
বুথওয়ারি মৃত ভোটার, ডুপ্লিকেট ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং নিখোঁজ ভোটারের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নিয়ে বিএলও এবং বিএলএ-দের যৌথ প্রস্তাবনা তৈরি করতে হবে। দু’পক্ষের বৈঠকের মাধ্যমে এই প্রস্তাবনা তৈরি হবে যেখানে বিএলও তাঁর বুথে মোট কত ভোটার, কতগুলি নির্বাচনী গণনাপত্র বিলি করা হয়েছে, কতগুলি অসংগৃহীত গণনাপত্র রয়েছে তা উল্লেখ করবেন।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রস্তাবনায় নির্দিষ্ট ফরম্যাটে বিএলও-রা সংশ্লিষ্ট বুথের চার ক্যাটেগরির ভোটারদের যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করবেন বিএলও-রা এবং স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের এজেন্ট বা বিএলএ-রা সই করে সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করবেন। প্রস্তাবনায় বিএলএ সহ উপস্থিত সকলের সই থাকবে। বিএলও নিজে প্রস্তাবনায় নিজের বুথ বা পার্ট নম্বর, বিধানসভার নাম উল্লেখ করে সই করে সংশ্লিষ্ট ইআরও বা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে জমা দেবেন। প্রস্তাবনার দুটি কপি করা হবে, যার একটি জমা পড়বে ইআরও-র কাছে এবং অপরটি বিএলও নিজের কাছে রাখবেন। ইআরও প্রস্তাবনা জমা নেওয়ার আগে কমিশনের গাইডলাইন মেনে এই প্রস্তাবনাপত্র পূরণ হয়েছে কিনা তা ভালো করে খতিয়ে দেখবেন। বুথওয়াড়ি এই প্রস্তাবনাপত্রের যাবতীয় রেকর্ড রাখতে হবে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলাশাসকদের কাছেও। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বিএলও-বিএলএ বৈঠকের মাধ্যমে যৌথ প্রস্তাবনা তৈরি এবং তা রেকর্ডের কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের অতিরিক্ত সিইও সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে কমিশনের এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এসআইআর পর্বের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে কমিশনের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সিইও দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা। মৃত স্থানান্তরিত নিখোঁজ এবং ডুপ্লিকেট এই চার ক্যাটেগরির ভোটারদের তথ্য সম্পর্কে বিএলএ-দের যুক্ত করে বিএলও-দের রক্ষাকবচ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। পাশাপাশি বিএলও-দের দেওয়া তথ্য যথাযথ কিনা তা যাচাই এর কাজটাও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে করিয়ে নেওয়া যাবে। প্রসঙ্গত, রাজ্যে মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, নিখোঁজ ও ডুপ্লিকেট এই চার ক্যাটেগরির ভোটারদের প্রকৃত তথ্য খুঁজে পেতে এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম থেকেই যথেষ্ট তৎপর নির্বাচন কমিশন। কারণ ভোটার তালিকাকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে হলে এই চার ক্যাটেগরির ভোটারদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া প্রয়োজন। ভোটার তালিকায় এই ধরনের ভোটারদের নাম যদি থেকে যায় তার সুযোগ নিয়ে ভুয়ো ভোটদানের সম্ভাবনা ততই বাড়ে। সেক্ষেত্রে যোগ্য ভোটারের ভোটাধিকার রক্ষার বিষয়টি প্রশ্ন চিহ্নের সামনে থেকে যায়। এমনকি নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে কমিশনের ভূমিকা। ছাব্বিশে নির্বাচনমুখী পাঁচ রাজ্যের ভোটার তালিকায় যাতে এধরনের ভোটারদের অস্তিত্ব না থাকে সে কারণে নানাভাবে একের পর এক পদ্ধতি অবলম্বন করে ভোটার তালিকা কে ত্রুটিমুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ভোটার তালিকায় কোন ত্রুটি ধরা পড়লে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত হবেন সংশ্লিষ্ট বিএলও এবং জবাবদিহি করতে হবে সংশ্লিষ্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও-কে। স্বাভাবিকভাবেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া চার ক্যাটেগরির ভোটারদের সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য তুলে ধরা বিএলও-দের বিধিবদ্ধ কাজ। অন্যথায় তাঁদের শাস্তির কোপে করতে হবে। চাকরি নিয়ে টানাটানি পাশাপাশি পেনশন এবং অবসরকালীন নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তাঁরা। এমনকি সাংবিধানিক বিধি অমান্য করার অভিযোগে ফৌজদারি দণ্ডবিধিতেও অভিযুক্ত হতে পারেন বিএলও-রা। স্বাভাবিকভাবেই বিএলও-দের উপর প্রথম থেকেই নানা ভাবে ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির জন্য চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি নিয়মের গেড়োয় আটকানোর চেষ্টা করেছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর পর্বের শেষ পর্যায়ে এসে এবার বিএলও-দের তথ্যকে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যাচাই করিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন। সেক্ষেত্রে বিএলও-দের দেওয়া তথ্যের যাচাইকরণে রাজনৈতিক দলগুলির দায়বদ্ধতাও জড়িয়ে যায়। এমনকি ইআরও এবং ডিইও-রাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকছেন। সবমিলিয়ে এসআইআর পর্বের শেষ পর্যায়ে বিএলও এবং বিএলএ-দের এই যৌথ প্রস্তাবনা বকলমে বিএলও-দের দেওয়া তথ্যকে রাজনৈতিক দলের সম্মতিপত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এই যৌথ প্রস্তাবনা বিএলও-দের রক্ষাকবচ হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত।

Share with