ঘিসিংয়ের দলের পথেই কমিশনে অস্তিত্বহীন হতে চলেছে মদন তামাং ও হরকা বাহাদুরের রাজনৈতিক দল ?
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
সুভাষ ঘিসিং-এর দল জিএনএলএফ-এর পর এবার কি পালা আট দশকের বেশি পুরনো ডম্বর সিং গুরুং-মদন তামাং খ্যাত দার্জিলিংয়ের ‘ অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ’ বা এবিজিএল এবং কালিম্পঙয়ের প্রাক্তন বিধায়ক হরকা বাহাদুর ছেত্রীর দল ‘ জন আন্দোলন পার্টির ‘ ? এক যাত্রায় পৃথক ফল না হলে জিএনএলএফ-এর মতই নির্বাচন কমিশনের খাতা থেকে নাম বাদ পড়তে চলেছে মদন তামাং এর বিধবা স্ত্রী ভারতী তামাং-এর দল এবিজিএল এবং হরকা বাহাদুরের জন আন্দোলন পার্টির। দেশজুড়ে রেজিস্টার্ড অথচ অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা অভিযান প্রক্রিয়ার তৃতীয় দফায় রাজ্যের মোট ১১টি এধরনের রাজনৈতিক দলকে আগামী ৯ অক্টোবর হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত দার্জিলিং ও কালিম্পঙয়ের এই দুই রাজনৈতিক দলকেও। কমিশনের প্রশ্নের সদুত্তর না মিললে এদেরও ভবিতব্য যে একই তা বলাই বাহুল্য।
আগামী ৯ অক্টোবর যে ১১টি রাজনৈতিক দলকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে তাদের মধ্যে দার্জিলিংয়ের দুটি এবং কালিম্পঙয়ের একটি রাজনৈতিক দল ছাড়াও কলকাতা দক্ষিণের দুটি, কলকাতা উত্তরের একটি, উত্তর ২৪ পরগণার একটি, দক্ষিণ ২৪ পরগণার দুটি, হাওড়ার একটি এবং ঝাড়গ্রামের একটি রাজনৈতিক দল এই তালিকায় রয়েছে।
মূলত টানা ৬ বছর কোন সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা, পরপর তিন বছরের অডিট করানো না হলে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট অফিস থাকলে নির্বাচন কমিশনের খাতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে ওই নির্দিষ্ট দলের নাম কেটে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল হিসেবে কমিশনের নথিভুক্তি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে গড় ছাড় সহ বিভিন্ন যে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই প্রথম দুই দফায় এরাজ্যে ১৩ টি রাজনৈতিক দলকে এই শাস্তির কোপে পড়তে হয়েছে যার মধ্যে একদা দার্জিলিংয়ের দোর্দন্ডপ্রতাপ জিএনএলএফ রয়েছে। তৃতীয় দফায় সমদোষে দুষ্ট ১১টি রাজনৈতিক দলকে তলব করা হয়েছে যাদের মধ্যে একদা পাহাড়ের রাজনৈতিক লড়াইতে প্রতিষ্ঠিত নাম হিসেবে এই তিন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ছিল। ফলে নির্বাচন কমিশনের নিয়মের গেরোয় পড়ে দার্জিলিং সহ রাজ্যের পাহাড়ি রাজনৈতিক লড়াইতে বহুদলীয় ব্যবস্থার জায়গা ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

