বিশেষ

গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৪০০ কোটি খরচের লক্ষ্য

Voice of Bengal Special Story

চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে আরও ১৪০০ কোটি টাকা খরচের উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের মুখ্য প্রশাসনিক ভবন নবান্নতে প্রাচ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কিছুদিন আগেই এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ। রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বাবদ অর্থ খরচের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। মূলত গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, সেচ ব্যবস্থা, পানীয় জল সরবরাহ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বিদ্যুতায়ন সহ নানান ক্ষেত্রে এই অর্থ খরচ করা হবে। রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেয় নাবার্ড। জাতীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ব্যাংক তথা নাবার্ড চলতি আর্থিক বছরের ১৪০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করছে।
সূত্রের খবর, এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আয়ের উৎসও বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মূলত স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলির মাধ্যমে কাজ করা হবে। নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন,”এই খাতে গত কয়েক বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।” প্রতিবছরই আরআইডিএফ’র তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন রাজ্যে গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প চালু হয়। এবার পশ্চিমবঙ্গের জন্য আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি দাবি, এর ফলে প্রায় এক কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। “এই অর্থ দিয়ে শুধু পরিকাঠামো নয়, গ্রামীণ শিল্পেরও প্রসার ঘটানো হবে। নতুন উদ্যোগপতিরা ঋণ সুবিধা ও প্রশিক্ষণ পাবেন” জানালেন নবান্নের এক আধিকারিক। নবান্নের বৈঠকের পর নাবার্ড ঋণ প্রদান করবে সে ব্যাপারে সবুজ সংকেত মিলেছে। ‌ এই টাকা দিয়ে রাজ্য সরকার কোন কোন খাতে খরচ করবে, তার সুস্পষ্ট তালিকা আর কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্য সরকার দেবে ঋণ প্রদানকারী সংস্থাকে। বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না, এমন অভিযোগ একাধিকবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিকবার বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় টিম এসেছে। যে সমস্ত বিষয়গুলো গলদ ছিল, এগুলোও মেটানো হয়েছে। তবুও প্রাপ্য টাকা দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার উদাসীন। একাধিক প্রকল্প রাজ্য সরকার নিজেই চালাচ্ছে। যার মধ্যে আবাস যোজনা রয়েছে। এছাড়া কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডার সহ একাধিক প্রকল্পে প্রচুর টাকা খরচ হয় রাজ্য সরকারের। তবুও বিভিন্ন প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন করে গ্রামীন পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ১৪০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার বিষয়টি সবুজ সংকেত পেয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই ঋণের টাকা কোন কোন খাতে খরচ হবে, তা নিয়ে রাজ্য সরকার জানানোর পরেই শুরু হয়ে যাবে উন্নয়নের কাজ।

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে যে প্রকল্পগুলো রাজ্য চালাচ্ছে
———————————-
• বাংলার বাড়ি : ২০২৫-২৬ অর্থ বর্ষে বরাদ্দ ১৫,৪৫৬ কোটি টাকা
• লক্ষীর ভান্ডার : চলতি অর্থ বর্ষে বরাদ্দ ২৬,৭০০ কোটি টাকা
• কৃষক বন্ধু (নতুন) : চলতি অর্থ বর্ষে বরাদ্দ ৫,৭৮১ কোটি টাকা
• কন্যাশ্রী : ২০২৫-২৬ অর্ধবর্ষে রাজ্যের বরাদ্ধ ৮০৩ কোটি টাকা
•স্বাস্থ্য সাথী : চলতি অর্থ বর্ষে রাজ্য বরাদ্দ করেছে ১,৮৫৮ কোটি টাকা

Share with