হাইকোর্টের নির্দেশে বাজেয়াপ্ত করা জমিতেই পুরসভার নির্মাণ, বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে আইনি নোটিশ
হাইকোর্টের নির্দেশে হাইকোর্ট নিযুক্ত কমিটির বাজেয়াপ্ত করা জমিতে জলের ট্যাঙ্কসহ অন্যান্য নির্মাণ করে বিতর্কে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুরসভা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি সত্বেও
‘বেপরোয়া’ পুর কর্তৃপক্ষ। অবশেষে হাইকোর্টের আইনজীবীর আইনি নোটিশ পুর কর্তৃপক্ষকে। অবিলম্বে বেআইনি নির্মাণ না ভাঙা হলে পরবর্তীতে আদালত অবমাননা মামলার হুঁশিয়ারি দিলেন আইনজীবী অরিন্দম দাস।
জঙ্গিপুরের বাসুদেবপুর মৌজায় বহু বছর ধরে প্রায় ১৩ শতক জায়গা ফাঁকা পরে আছে। ওই জমি চিটফান্ড মামলায় দোষী সাব্যস্ত রোজভ্যালি কোম্পানির। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে সংশ্লিষ্ট সকলেই তা জানে। হাইকোর্টের নির্দেশে সেই জমি বাজেয়াপ্ত করেছে হাইকোর্ট নিযুক্ত কমিটি। এমন জমিতে হঠাৎ জঙ্গিপুর পুরসভা জলের ট্যাঙ্ক সহ আরও নির্মাণ কাজ করছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলেই বিবেচিত। স্থানীয়দের বক্তব্য, “এমন বিতর্কিত জমিতে কোনো প্রোমোটার নজর দিলেও মানা যেতো, তার বদলে একটা পুরসভা! বেআইনিভাবে জমি দখলে নেমেছে পুরসভা!”
ইতিমধ্যে ওই জমির বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে পুরসভা থেকে জেলাশাসক হয়ে নবান্নের কর্তাদের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন হাইকোর্টের আইনজীবী অরিন্দম দাস। রোজভ্যালির আমানতকারীদের তরফে তিনি নোটিস পাঠিয়ে পুরসভাকে সতর্ক করেছেন, এখনই ওই বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করা হোক। কারণ কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর গত প্রায় এক দশক ধরে ওই জমি সহ চিটফান্ডের টাকায় কেনা বেআইনি সম্পত্তি হাইকোর্ট নিযুক্ত কমিটির হেফাজতে আছে। তারপরেও কি করে ওই জমিতে পুরসভার মত একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ করে জমি দখলের চেষ্টা করছে? এই প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ।
পুরসভা কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি একইসঙ্গে সেবি, ইডি, সিবিআই, থেকে রাজ্যের যাবতীয় সংস্থা ও রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সকলের নজরে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন হাইকোর্টের আইনজীবী। এরপর কাজ না হলে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী অরিন্দম দাস।

