হেডলাইন

জেলে বন্দীদের জন্যেও কমিশনের বরাদ্দ এনুমারেশন ফর্ম

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গসহ ১২টি রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিশেষ উদ্যোগকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নানান প্রশ্ন ও আলোচনার ঝড়। রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন মতামত উঠে আসছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার ওপর নির্ভর করেই এই এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালে শেষ এসআইআর হয়েছিল। ‌
যাঁদের নাম ওই তালিকায় রয়েছে, তাঁদের কোনও অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হবে না। তবে, বিএলওরা প্রত্যেক ভোটারের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন একটি এনুমারেশন ফর্ম, যা সকলকেই পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে, যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের হাতে এই ফর্ম দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের ডেকে পাঠানো হবে নির্দিষ্ট সময়ে। সেখানেই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত বৈধ নথিগুলির মধ্যে যেকোনও একটি দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রশ্ন উঠেছে, জেলে বন্দি ব্যক্তি বা অনাথ আশ্রমে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে কীভাবে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছবে?
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন,“যদি কেউ জেলে থাকেন, তাঁর ক্ষেত্রেও এনুমারেশন ফর্ম বরাদ্দ থাকবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানায় বিএলও গিয়ে ফর্ম দেবেন। পরিবারের সদস্যরা সেই ফর্ম জেলারের মাধ্যমে পৌঁছে দেবেন বন্দির কাছে।”
এই উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের বৈঠক হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী বন্দিরাও ফর্ম পূরণের অধিকারী। তবে এর দায়িত্ব থাকবে জেলারদের ওপর, কারণ তাঁদের মাধ্যমেই ফর্ম জেলে পৌঁছবে। যদি বন্দির বাড়িতে কেউ না থাকেন, সে ক্ষেত্রে বিএলও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে কমিশনকে রিপোর্ট করবেন, এবং পরে জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্দিকে এনুমারেশন ফর্ম সরবরাহ করা হবে। বন্দি চাইলে জেলারের অনুমতি সাপেক্ষে অনলাইনেও ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, কারাগারে বন্দি থাকা ব্যক্তিদের জন্য অনলাইনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করতে পারবেন।
একইভাবে অনাথ আশ্রমে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আশ্রম কর্তৃপক্ষের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ঠিকানার ভিত্তিতে বিএলও পৌঁছে যাবেন এবং প্রয়োজনে অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফর্ম পূরণ করা যাবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন,
“স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। সমস্ত ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।”
নির্বাচনী দপ্তরের দাবি, এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের ভোটার তালিকা হবে আগের চেয়ে আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।

 

“স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরীর উদ্দেশ্যেই কমিশনের গাইডলাইন মেনে এসআইআর”

মনোজ কুমার আগরওয়াল
সিইও, নির্বাচন কমিশন, পশ্চিমবঙ্গ

 

প্রয়োজনীয় নথিগুলির যেকোনো একটি
••••••••••••••••••••••••••

১. আপনি কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি কর্মচারী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী হলে আপনার সেই পরিচয়পত্র।
২. আপনার নামে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের কোনও সরকারি (কেন্দ্র অথবা রাজ্য) নথি। ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি-র নথিও গ্রাহ্য।
৩. জন্মের শংসাপত্র।
৪. বৈধ পাসপোর্ট।
৫. যে কোনও বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া শিক্ষা সংক্রান্ত শংসাপত্র (যেখানে জন্মের সাল এবং তারিখের উল্লেখ রয়েছে)।
৬. সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থায়ী বসবাসকারীর শংসাপত্র।
৭. তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত হলে তার শংসাপত্র।
৮. জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) তালিকায় নাম।
৯. বনাঞ্চলের অধিকারের শংসাপত্র।
১০. রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের তৈরি করা পারিবারিক ‘রেজিস্টার’।
১১. সরকার প্রদত্ত জমি বা বাড়ির নথি (দলিল, পর্চা ইত্যাদি)।
আধার, এপিক, রেশন কার্ড চলবে না কেন?
১২. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আধার কার্ড। তবে এক্ষেত্রে শুধু পরিচয় পত্র হিসাবে গৃহীত
১৩. বিহারে এসআইআর পরবর্তী ভোটার তালিকা

Share with