বিশেষহেডলাইন

জন্মের আগেই জন্মের শংসাপত্র, এক মাসেই দুই সন্তান ; বিচিত্র তথ্যে চোখ কপালে কমিশন কর্তাদের

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

কেউ রাম না হতেই রামায়ণ রচনা করেছেন। কেউ চিকিৎসা বিজ্ঞানকে লজ্জায় ফেলে কখনও এক মাসের কং সময়ে আবার কখনওবা ছয় মাস পেরোতে না পেরোতেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। আবার কেউ জম তারিখের বদলে শুধু সাল উল্লেখ করে তথ্য গোপন করেছেন। এসআইআর শুনানির নথি যাচাই করতে গিয়ে এরকম বহু বিচিত্র তথ্যের সন্ধান মিলেছে যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে রোল অবজার্ভার থেকে উচ্চপদস্থ নির্বচনী কর্তাদের। রাজ্যে এসআইআর শুরুর সময় কমিশন যে এনুমারেশন ফর্ম দিয়েছিল সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যদি কোনও ভুল তথ্য দেওয়া হয় তাহলে দেশের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ করবে কমিশন। তদনুযায়ী
প্রতিটি বিষয় রাজ্য সরকারের গোচরে এনে কেসভিত্তিক খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ইআরও-কে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রথম ঘটনা :
জন্ম ০৬/০৩/১৯৯৩ অথচ বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি হয়েছে তার আগেই, ০৪/০৩/১৯৯৩ তারিখে। বরানগর বিধানসভা এলাকার ঘটনা। ব্যক্তির নাম পাপিল সরকার।
স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে এই তথ্য সামনে আসে। যা দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ইআরও-কে আইনানুগ পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিভাবে জন্মের অগেই জন্ম সর্টিফিকেট তৈরি হয়েছে সেব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকেও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সত্যতা প্রমাণে ওই ব্যক্তির নাম
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনা ::
মেটিয়াবুরুজের ৫৫ নম্বর বুথ এলাকার বাসিন্দা
আব্দুল হাইক। তিনি ২০ বছরে ১০ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। যেখানে চিকিৎসা বিজ্ঞানকে ফেল করিয়ে তিনি কখনও এক মাসেরও কম সময়ে অথবা ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। প্রত্যেকের মা একজনই, মানোয়ারা বিবি।
কমিশন সুয্রে পাওয়া তথ্যে আব্দুল-মানোয়ারার ১০ সন্তানের জন্ম তারিখ যথাক্রমে ১/১/৮৪ (মেয়ে), ১/১/৮৮ (মেয়ে), ৫/১২/৯০ (মেয়ে), ১/১/৯১ (মেয়ে), ১৪/৮/৯৪ (মেয়ে), ১১/৪/৯৬ (ছেলে), ১/১/৯৭ (মেয়ে), ১/১/৯৮ (মেয়ে), ১০/৩/২০০০ (ছেলে) এবং ১৩/১২/২০০৪(মেয়ে)। মেটিয়াবুরুজের এই নজিরবিহীন ঘটনার ক্ষেত্রেও তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুর ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

তৃতীয় ঘটনা ::

পূর্ব বর্ধমানের মেমারির ৫৫ নম্বর বুথের বাসিন্দা
আলাউদ্দিন সেখ এনুমারেশন ফর্মে জন্ম তারিখ লেখার জায়গায় xx/xx/ ১৯৮৭ লিখেছেন। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে তিনি কমিশনের কাছে তথ্য ভুল দিয়েছেন বা গোপন করেছেন। কমিশন এখানেও একই পদক্ষেপ করতে ইআরও-কে লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন এমনই বহু ভোটার ভুল তথ্য দিয়েছেন যা ঝাড়াই-বাছাই করতে যেমন অনেক সময় যাচ্ছে তেমনি নাজেহাল হতে হচ্ছে সব নির্বাচন কর্মীকেই। এমনিতেই বিভিন্ন ধরনের জটিলতা, রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে আইনি জটিলতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা নির্বাচন কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার উপর এধরনের “উদ্ভট” তথ্য কমিশনের কাজকে আরও জটিল করে তুলছে। সবমিলিয়ে এধরনের পরিস্থিতির মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১০০% স্বচ্ছ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারবে কি নির্বাচন কমিশন এই প্রশ্নই বড় হযে দাঁড়িয়েছে কমিশনের অন্দরেই।

Share with