কাঠগড়ায় ইআরও ও এইআরও !! অনাস্থার আবহে নথি যাচাই ও তালিকা প্রকাশের ডেডলাইনে সংশয় ??
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আস্থা-অনাস্থার দ্বন্দ্বে বারবার লক্ষ্যপূরণে হোঁচট খাচ্ছে বঙ্গের এসআইআর। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুনানির কাজ ও ফর্ম ৭ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট টাইমলাইনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি কমিশন। এবার নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ডেডলাইন রক্ষা করা যাবে কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত নয় রাজ্যের সিইও দপ্তর। এজন্য মূলত এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ইআরও এবং এইআরও দের কাঠগড়ায় তুলে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন কমিশনের কর্তারা। অবশ্য কমিশনের একাধিকবার নিয়ম বদল যে জটিলতা বাড়িয়েছে তা নিয়েও সওয়াল করেছেন সংশ্লিষ্ট পদাধিকারিরা।
মূলত, ভোটারদের কাছ থেকে শুনানির জন্য নথি নিয়েও সেই নথি কমিশনের গাইডলাইন অমান্য করে আপলোড না করা নিয়ে রাজ্যের ইআরও এবং এইআরও-দের ভূমিকায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন বলে সূত্রের খবর। কমিশনের নির্দেশ বা গাইডলাইন অনুযায়ী বঙ্গের এসআইআর শুনানিতে ভোটারদের থেকে কমিশন নির্দেশিত একটি করে নথি নেওয়ার কথা। যদি কেউ আধার কার্ড জমা দেন তাহলে তার সঙ্গে অতিরিক্ত একটি কমিশন নির্দেশিত নথি জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে ইআরও অথবা এইআরও-রা অতিরিক্ত নথি ভোটারদের থেকে নিলেও তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপলোড করেননি। ফলে সুপার চেকিং পর্যায়ে নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ইআরও অথবা এইআরও-দের কাছে নিষ্পত্তি না হওয়া শুনানির নথি প্রায় ২০ লক্ষ। যা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি সুপার চেকিং পর্যায়ে। পাশাপাশি ইআরও-দের পোর্টাল ডেডলাইন মেনে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত রাজ্যে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ২৭৭ জন ভোটারের নথি আপলোড পেন্ডিং রয়েছে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলাশাসক তথা ডিইও-দের কাছে যাচাই না হওয়া নথি ৪ লক্ষ ৬৬ হাজারের বেশি। এই অবস্থায় বিভিন্ন কারণে সন্দেহের অবকাশ থাকায় প্রায় ৩০ লক্ষ নথি পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরাজ্যে নথি যাচাইয়ের সর্বশেষ ডেডলাইন ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই বিপুল নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন নির্বাচনী কর্তারাই। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ” বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমিশনের গাইডলাইন অমান্য করে নথি সংগ্রহ থেকে তা আপলোড করার কাজে অনিয়ম হয়েছে। শুনানি পর্ব শেষে কমিশনের নির্দেশ মতো বেশিরভাগ ইআরও বা এইআরও প্রতিদিনের নথি সঙ্গে সঙ্গে আপলোড না করায় জটিলতা বেড়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।”
তাহলে কি ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ হবে না ? সিইও-র সংক্ষিপ্ত উত্তর ” সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি।” সেক্ষেত্রে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ নিয়েও জল্পনা চলছে।
শুধু অনিশ্চয়তা নয় নথি সংগ্রহের পরেও কেন তা আপলোড হয়নি তা নিয়ে সন্দেহের বাতাবরণও তৈরি হয়েছে বঙ্গের এসআইআরে। এই অনাস্থার কারণেই বারংবার নথি যাচাইয়ের কাজ করতে গিয়ে যেমন জটিলতা বাড়ছে তেমনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে।
বস্তুত, ভোটারদের কাছ থেকেই নথি সংগ্রহ করার পর সেই নথি আপলোড না করা হলে তা যাচাই করা সম্ভব নয় । ফলে ওই ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারে না কমিশন। এর মধ্যে যাচাই পর্ব শেষ হয়ে গেলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সেই ভোটারদের নাম না থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। যে ভোটার দীর্ঘক্ষণ শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে নথি জমা দিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরে গেছেন তাঁর ভোটদানের অধিকার যদি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে সেটা হয়রানির নামান্তর। সাধারণভাবে ভোটারদের এই হয়রানির ক্ষেত্রে অভিযুক্তের কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। যদিও কমিশনের গাইডলাইন অমান্য করে ইআরও অথবা এইআরও বা কিছু ক্ষেত্রে ডিইও-দের কাজের জন্য মুখ পুড়ছে কমিশনের বলে মত কমিশনের পদস্থ কর্তাদের। এক্ষেত্রে কমিশন নয় ইআরও অথবা এইআরও-দের কাঠগড়ায় তুলেছে সিইও দপ্তর। সিইও জানিয়েছেন ” ভোটারদের থেকে নথি নিয়েও তা আপলোড না করায় ভোটারদের হয়রানি হলে তার জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট ইআরও বা এইআরও-রাই, কমিশন নয়।”

