হেডলাইন

কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক পদে স্বরাষ্ট্রসচিব সহ ৯ আইএএস এর বদলে নতুন নাম পাঠালো নবান্ন, অব্যাহতি চেয়ে সিইও কে চিঠি দুই আইপিএসের

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশপ্রসাদ মিনা সহ ১৫ জন প্রথম সারির আইএএস এবং হাওড়া ও আসানসোলের পুলিশ কমিশনার সহ ১০ জন প্রথম সারির আইপিএস কে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের তালিকাভুক্ত করায় বিপত্তিতে রাজ্য সরকার। রাজ্যের স্বাভাবিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া রক্ষার বিষয়ে রাজ্যের এই প্রথম সারির আধিকারিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নবান্ন। ফলে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের তালিকা থেকে প্রথম সারির নয় জন আইএএস আধিকারিক কে অব্যাহতি দেয়ার আবেদনে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে নবান্ন। তার প্রতিলিপি দেয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালকেও। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সহ স্বাভাবিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া এবং সরকারী কাজ কর্মের গতি অব্যাহত রাখতে এই নয় আইএএস আধিকারিককে ওই তালিকা থেকে বাদ দেয়া হোক বলে আবেদন রাজ্যের। পরিবর্তে নতুন নয় আধিকারিক এর নাম ও কমিশনকে পাঠানো হয়েছে নবান্নর তরফ থেকে। নয় আইএএস আধিকারিককে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার তাঁরা হলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনা, সঞ্জয় বনশাল, পি মোহন গান্ধী, অবনীন্দ্র সিং, পি বি সেলিম, সৌমিত্র মোহন, শুভাঞ্জন দাশ, রচনা ভগত ও পি উলগানাথন। পক্ষান্তরে, প্রথম সারির নয় আইএএস অফিসারের পরিবর্তে নতুন করে যে নয় আইএস আধিকারিক এর নাম রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে তাঁরা হলেন রাজীব কুমার, অভিনব চন্দ্র, নিরঞ্জন কুমার, ডঃ বিশ্বনাথ, আর অর্জুন, অপলা শেঠ, তাপস কুমার বাগচী, সসীম কুমার বড়াই এবং সোনম ওয়াং দি ভুটিয়া। উল্লেখযোগ্য নবান্নর তরফ থেকে কোন আইপিএস অফিসার কে ওই তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়নি। যদিও রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল এর কাছে দুজন আইপিএস অফিসার ভরত লাল মিনা এবং ঋষিকেশ মিনা সরাসরি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন এবং এব্যাপারে সিইও-র হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। জানা গেছে, দুজনেরই মেডিকেল ইমারজেন্সি রয়েছে। ভরতলাল মিনার স্ত্রী লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত, অন্যদিকে ঋষিকেশ মিনার কয়েকদিন আগেই বড় অপারেশন হয়েছে। সিইও জানিয়েছেন ” যেহেতু দুই আইপিএস অফিসারের গুরুতর স্বাস্থ্য জনিত কারণ রয়েছে। তাই এই দুটি নাম যাতে বিবেচনা করা হয় তা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে কাছে সুপারিশ করেছে সিইও দপ্তর। তবে এক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”

অন্যদিকে রাজ্যের ভোটার তালিকার পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত থাকা যে তিন আইএএস অফিসারকে ( স্মিতা পান্ডে অশ্বিনী যাদব ও রানভির কুমার) রাজ্য সরকার নতুন পদে বদলি করেছিল সে ব্যাপারে বৃহস্পতিবার উত্তর দিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন কমিশনের কাজে যুক্ত থাকা এই তিন আইএএস আধিকারিককে কমিশনের অনুমতি ছাড়া বদলি করা হয়েছে তা জানতে চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্য সরকার কমিশনকে জানিয়েছে, যেহেতু নির্বাচনী বিধি কিছুদিনের মধ্যেই কার্যকর হতে চলেছে তাই ভোটার তালিকার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ওই তিনআইএএস আধিকারিককে তুলনামূলক কম গুরুত্বের দপ্তরে বদলি করা হয়েছে যাতে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাজ যথাযথভাবে পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও রাজ্যের এই যুক্তি কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে হতে পারে বলে মনে করছেন পদস্থ আধিকারিকরা।

Share with