কলকাতা সহ ৬ জেলায় ৬৯ বহুতলে ভোটের বুথ ! বহু তোড়জোরেও ‘ শহুরে অনীহা ‘ নিয়ে সংশয়
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
প্রচলিত নির্বাচনী নিয়মে বদল, বুথ পুনর্বিন্যাস চূড়ান্ত করার ডেডলাইন পিছনো, বুথে ভোটারের সংখ্যার হেরফের,সর্বোপরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি সত্বেও ডিইও-দের কড়া বার্তা দিয়েও ভোট নিয়ে ‘ শহুরে অনীহা ‘ কাটাতে পারল না নির্বাচন কমিশন। বহুতলে ভোট বুথ তৈরির প্রশ্নে শহরতলী বা মফস্বলে সামান্য সাড়া মিললেও মুখ ফিরিয়েই থাকল শহর কলকাতা। আকাশচুম্বী বহুতলের বাসিন্দাদের মাটিতে নামিয়ে বুথ্মুখী করতে বহুতলে ভোটবুথ তৈরির উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত সাতটি জেলায় মাত্র ৬৯টি আবাসনের সন্ধান পাওয়া গেল। শুক্রবার জেল নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলাশাসকদের পক্ষ থেকে পাওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী উত্তর কলকাতায় মাত্র ২টি ও দক্ষিণ কলকাতায় ৪ টি বহুতলে ভোটের বুথ করার প্রস্তাব এসেছে। তবে কলকাতা লাগোয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৫ টি এবং উত্তর
২৪ পরগনায় ২২ টি বহুতল এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। এছাড়া হুগলিতে ৫ টি, হাওড়ায় ৪ টি এবং পুর্ব বর্ধমানে ৩ টি এধরনের বহুতলের সন্ধান মিলেছে। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন ” জেলাগুলি থেকে সবমিলিয়ে ৬৯ টি বহুতলের প্রস্তাব এসেছে। এই প্রস্তাবগুলি কমিশনে পাঠানো হবে। ”
কিছুদিন আগেই কলকাতায় এসে সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী সিইও দপ্তরে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিইও-দের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং এনিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে ডিইও-দের সরেজমিনে ভিজিট করারও পরামর্শ দেন। প্রসঙ্গত, বহুতলে বুথ তৈরির জন্য প্রচলিত নির্বাচনী নিয়মের বদল করে
বুথ পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষের আগেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। যদিও এর আগেও দুবার রাজ্যের সমস্ত ডিইওদের চিঠি পাঠিয়েও এই পরিকল্পনায় তেমন সাড়া মেলেনি। ফলে নির্বাচন কমিশন সরাসরি এই কর্মসূচিতে হস্তক্ষেপ করে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দেন এবং কমিশনের এধরনের পরিকল্পনার এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যদিও তাতেও দমেনি নির্বাচন কমিশন।
প্রথমে ৮০০, পরে ৫০০ এবং সবশেষে আবাসনের বুথে ন্যূনতম ৩০০ ভোটার থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজ্যে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের বুথ পুনর্বিন্যাসের ডেডলাইনও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। যদিও এত কিছুর পরেও রাজ্যের শহর ও শহরাঞ্চলে ভোটের শতাংশ বাড়াতে আকাশচুম্বী বহুতলের মধ্যেই ভোটের বুথ তৈরির পরিকল্পনায় আশানুরূপ সাড়া পায়নি কমিশন। ‘ শহুরে অনীহা ‘
দূর করে আকাশচুম্বি বহুতলের বাসিন্দারা মাটিতে নেমে ভোট দেবেন কিনা তা নিয়ে এখনও সংশয়েই রয়েছেন পদস্থ কর্তারা।

