কম দফায় নির্বাচন, আজ রাত থেকেই প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
“আর আট দফা বা সাত দফা নির্বাচন নয়। পশ্চিমবঙ্গে এবার দফা কমিয়ে নির্বাচন হবে। কম দফায় নির্বাচন করার জন্য সবাই প্রস্তুত থাকুন। প্রয়োজনে আজ থেকেই কাজে নেমে পড়ুন। মনে রাখবেন আজকের রাতই সেই রাত (Let Tonight Be The Night)”। সোমবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকে জেলাশাসক ও জেল পুলিশ সুপারদের এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। অর্থাৎ, একুস্জের বিধানসভার মত আট দফা ভোটের ঝক্কি নিতে হবে না রাজ্যবাসীকে সেকথা স্প্স্ট করে দিয়েছে ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বৈঠকেও দফা কমিয়ে ভোটের পক্ষেই প্রস্তাব দেওয়া হয়। অবশেষে জেলা প্রশাসনগুলোর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যে কম দফার নির্বাচন করার বার্তা স্পষ্ট করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। যদিও ঠিক কত দফায় নির্বাচন হবে তা জানা না গেলেও পদস্থ আধিকারিকদের ধারণা তিন-চার দফার বেশি এগোবে না এবারের নির্বাচন।
অবশ্য সোমবার প্রথম পর্যায়ের বৈঠকে যতটা ক্ষুব্ধ ছিলেন দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈঠকে ততটা ক্ষুব্ধ ছিলেন না জ্ঞানেশ কুমার।
তবে সোমবার রাতের পর থেকেই যেন বাংলায় কোনও বেআইনি অস্ত্র, বোমা, বেআইনি নগদ টাকা ও মদের কারবার না দেখি। অর্থাৎ ভোটের আগে বেআইনি মদ, বোমা, অস্ত্র, বেআইনি টাকা বাজেয়াপ্ত করতে হবে তার কাজ শুরু করতে হবে আজ রাত থেকেই। ” কালকের জন্য যেন কিছু ফেলে রাখা না হয় ” স্পষ্ট বার্তা জ্ঞানেশ কুমারের। সার্বিকভাবে এদিন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের বৈঠকে এস আই আর সংক্রান্ত বিশেষ কিছু আলোচনা না হলেও বেলডাঙ্গা ও শামসেরগঞ্জের অশান্তির ঘটনা কেন হয়েছে তা জানতে চায় নির্বাচন কমিশনে। কেন এই অশান্তি আটকানো যায়নি তা নিয়ে ব্যাখ্যা দেন মুর্শিদাবাদ জেল প্রশাসনের কর্তারা। ভবিষ্যতে বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন এধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে বলেও জানিয়ে দেয় ফুল বেঞ্চ। একইসঙ্গে সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে কমিশনের নির্দেশকে যেন লঘু করে দেখা না হয়। সেক্ষেত্রে কমিশন কি করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিলক্ষণ জানেন। তাই নির্বাচনী নিরাপত্তা, স্বচ্ছ্বতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে যা যা করা প্রয়োজন তা সোমবার রাত থেকেই যেন শুরু করা হয় জেল প্রশাসনগুলিকে সেই বার্তা দেওয়া হয় জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার রাজ্য প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এধরনের বিশেষ বার্তা দেবেন জ্ঞানেশ কুমার ও ফুল বেঞ্চ তা বলাই বাহুল্য।

