কমিশন-রাজ্য সংঘাতে ‘ঢিলেমি’ ? প্রশ্নের মুখে বঙ্গে এসআইআর
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
কমিশন-রাজ্য এসআইআর সংঘাতে কি আপাত বিরতি? এসআইআর নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে যেভাবে যুদ্ধং দেহি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে প্রশ্নের মুখে এসআইআর। একদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যেমন তর্জন-গর্জন কমেছে তেমনি আগস্ট পেরিয়ে সেপ্টেম্বরেও পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর ক’দিন পরেই পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে চলেছে। মাসখানেক ধরে রাজ্যে ছুটির মরসুম চলবে।
এমনিতেই বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে যথাযথভাবে কার্যকর করতে
ন্যূনতম দশ দিন সময় লাগে। নির্বাচন কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করতে হলে সেপ্টেম্বর পেরিয়ে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের আগে সম্ভব নয় তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া যেহেতু ছাব্বিশে নির্বাচন তাই সাধারণ নিয়মেই নভেম্বর মাস থেকে ভোটার তালিকা সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ শুরু করবে রাজ্য সিইও দফতর। সেক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালু হবে না। অবশ্য আগে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ চালু হয়ে গেলে নিয়মিত সংশোধনের আর কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।
এসআইআর নিয়ে এত লম্ফঝম্পের পরে এখন এসআইআর প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে কেন? ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন একাধিকবার এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। ইআরও এবং এইআরও নিয়োগ নিয়েও রাজ্যের স্ট্যাটাস জানতে চাওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত কার্যকরী রিপোর্ট কমিশনকে পাঠানোর জন্য ২৯ আগস্ট ডেডলাইনও দেওয়া হয়। কিন্তু ডেডলাইন পেরোলেও তা পাঠায়নি রাজ্য সিইও দফতর। অথচ এনিয়ে নতুন করে কিছু জানতেও চায়নি কমিশন। অন্যদিকে, ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার এফআইআর না করলেও কমিশন এখনও নির্বিকার। পাশাপাশি দ্বিতীয় দফায় যে ছয় নির্বাচনকর্মী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপের সুপারিশ করেনি কমিশন। এমনকি রাজ্য সিইও দফতরে বিভিন্ন শূন্যপদের জন্য রাজ্যের তৈরি করা প্যানেল বেশ কিছুদিন আগেই ফেরত পাঠিয়ে নতুন প্যানেল পাঠানোর যে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন তা এখনও কার্যকরী করেনি রাজ্য। যদিও তা নিয়েও কোনও পাল্টা সাড়া নেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। যদিও সিইও দফতরে সর্বদল বৈঠকে পাঁচ জেলার বুথ লেভেল এজেন্টদের তালিকা জমা দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতির নিরিখেই এসআইআর নিয়ে দু’তরফের দ্বৈরথ সাময়িক থিতিয়ে যাওয়ায় রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কমিশন রণে ” ঢিলেমি ” দিয়েছে বলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে পুজোর ছুটির সমস্যার কথা মেনে নিলেও কমিশনের ” ঢিলেমি ” মানতে নারাজ পদস্থ কর্তারা।
একদিকে আগামী নভেম্বর মাসে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের জন্য ব্যস্ততা এবং সুপ্রিম কোর্টে বিহারে এসআইআর নিয়ে বিচারাধীন মামলার কারণেই ” দেরি ” বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের পদস্থ আধিকারিকরা। এসআইআর বিরোধিতায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কেন্দ্রবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যেভাবে আন্দোলনমুখী হয়েছে তা নিয়ে গোটা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উপরেও নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন। সবমিলিয়ে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে বিহারের মত জটিলতা যাতে তৈরি না হয় সেদিকে সজাগ থেকেই কমিশনের এই সতর্ক পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্ট আধিকারিকরা।

