কমিশনের ‘ গুঁতোয় ‘ ২,২০৮ থেকে দৌড় শূন্যপানে, আজব কাণ্ড রাজ্যে
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
একেই বোধহয় বলে ‘ঠেলার নাম বাবাজি’। এক ধাক্কায় ২,২০৮ থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০। যত সময় যাচ্ছে ততই কমছে সংখ্যার জাগলারি।
দুদিন আগেই নির্বাচন কমিশন থেকে রাজ্য সিইও দপ্তরে একটি রিপোর্ট পাঠিয়ে জানানো হয় রাজ্যের ২,২০৮টি বুথে কোনও মৃত ভোটার অথবা স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট ভোটারের অস্তিত্ব মেলেনি। কারণ এই বুথগুলিতে ফিল আপ না করা কোনও অসংগৃহীত এনুমারেশন ফর্ম বা নির্বাচনী গণনাপত্র পাওয়া যায়নি, অর্থাৎ শূন্য। আর এখানেই কমিশনের প্রশ্ন, ২০০২ সালের পর অর্থাৎ ২৩ বছর ধরে ওই বুথ এলাকায় কোন ভোটারের মৃত্যু হয়নি? অথবা কোন ভোটার স্থানান্তর হননি? এই যুক্তি কতটা বাস্তব সম্মত তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সিইও দপ্তর তো বটেই রাজ্যে স্পেশাল ইলেক্টোরাল রোল অবজারভার সহ যে ইলেক্টোরাল রোল অবজারভাররা নিযুক্ত হয়েছেন তাদের দিয়ে জেলায় জেলায় এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনের পক্ষ থেকে। কমিশন চাপ বাড়াতেই ঘটেছে মিরাক্যল। গত ২৪ ঘন্টায় যত সময় এগিয়েছে ততই জেলায় জেলায় কমতে শুরু করেছে এই সংখ্যার ভার। অর্থাৎ ২,২০৮ কমতে কমতে মঙ্গলবার সন্ধ্যে পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চারশোর কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। সিইও দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন সময় যত গড়াবে ততই এই সংখ্যার জাগলারি শূন্য অভিমুখে এগোবে। হঠাৎ বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২২৮ টি বুথে মৃত অথবা স্থানান্তরিত বা নিখোঁজ ভোটার নেই বলে যে তথ্য কমিশনের সার্ভারে আপলোড করা হয়েছিল কমিশনের যাচাইকরনের চাপে ২৪ ঘন্টা পেরোতে না পেরোতেই তা উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছে। সিইও দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শূন্য থেকে ১০ পর্যন্ত যে যে জেলায় কম সংখ্যার ফাঁকা গণনাপত্র মিলেছে সেই জেলাগুলি থেকে আগামীকালের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। যদিও ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই যাচাই-কর্মের কাজ থাকবে। স্পেশাল ইলেক্টোরাল রোল অফিসার সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পেলেই গোটা বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট হবে। আগামীকাল তিনি নিজে পূর্ব বর্ধমান ভিজিট করতে যাচ্ছেন। তবে জেলায় জেলায় এই যাচাই করনের কাজ যেভাবে জোরকদমে চলছে তাতে ২, ২০৮ সংখ্যা তলানিতে ঠেকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

