হেডলাইন

কমিশনের নিয়মের গেঁড়ো, ‘আনকালেক্টেড’ ক্যটেগরি সিইও দফতরের কর্তা নিজেই!

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিত্যনতুন নিয়মের বদল করছে নির্বাচন কমিশন। এবার নয়া নিয়মের গেঁড়োয় ফাঁপরে কমিশন কর্তাই। খোদ সিইও দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তার এনুমারেশন ফর্ম ‘আনকালেক্টেড’ বিএলও-র রিপোর্টে !

কিভাবে এমন হল ? যিনি নিজেই ভোটার তালিকার যাবতীয় সিদ্ধান্তের তদারকি করেন এবং বিএলও-দের যাবতীয় আচরণবিধি, কাজকর্ম কমিশনের গাইডলাইন মেনে হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখেন তিনিই কিনা বিএলও-র রিপোর্টে “নিখোঁজ” অথবা “স্থানান্তরিত ” কিংবা “ভুয়ো ভোটার”?

বিধাননগর বিধানসভার বাসিন্দা সিইও দপ্তরের এই উচ্চপদস্থ কর্তা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অনলাইনে তা লিপিবদ্ধ করে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট সার্ভারে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। যদিও বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিডিউল অনুযায়ী এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহের শেষ দিন হলেও তখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিএলও তাঁর বাড়িতে ফর্ম পৌঁছে দেননি। বুধবার থেকেই নির্বাচন কমিশনের নয়া নিয়মে বিএলও অ্যাপে নতুন অপশন দেওয়া হয়েছে যে কোনও বিএলও যদি কোনও ভোটারের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে যদি না পান তাহলে তিনি ‘আনকালেক্টেবেল’ বলে নিজেই উল্লেখ করতে পারবেন। এই নিয়ম জানা মাত্রই সিইও দপ্তরের ওই পদস্থ কর্তা সংশ্লিষ্ট বিএলও-কে ফোন করেন।এবং তিনি এখনও ফর্ম পাননি বলে বিএলও-কে জানান। বিএলও ওই উচ্চপদস্থ আধিকারিককে জানিয়ে দেন, ওই কর্তার এনুমারেশন ফর্ম ‘আনকালেক্টেবেল’ হিসেবে জমা পড়ে গেছে। কারণ হিসেবে জানানো হয় ওই পদস্থ আধিকারিক ওই বুথ এলাকার থাকেন না। বাইরে কোথাও থাকেন। তাঁর খোঁজ করেও যখন সন্ধান মেলেনি তখন সেই ফর্মটি আনকালেক্টেবেল হিসেবেই উল্লেখ করে পাঠিয়ে দিয়েছেন বিএলও। সিইও দপ্তরের কর্তা বিএলও-কে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন
এব্যাপারে তাঁর কিছু করার নেই। কিছু জানতে হলে
ইআরও-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে বা দরখাস্ত দিতে হবে। বিধাননগরের মহকুমাশাসক নাকি তাঁদের এই ধরণের নির্দেশই দিয়েছেন। কোনভাবেই যখন কাজ উদ্ধার হয়নি তখন ওই পদস্থ কর্তা বিধাননগরের মহকুমাশাসকের সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করেন এবং গোটা বিষয়টি মহকুমাশাসককে জানান। একইসঙ্গে ওই বিএলও যে এলাকাতে না গিয়েই এসব কথা বলছেন সেকথাও জানান তিনি। সিইও দপ্তরের কর্তার ফোন পেয়ে বিধাননগরের মহকুমা শাসক সঙ্গে সঙ্গে বিএলও-কে শোকজ করার শাসানি দেন এবং ওই পদস্থ কর্তার কাছে গিয়ে বিএলও-কে কথা বলতে বলেন। এর পরের ঘটনা সহজেই অনুমেয়। যদিও ওই বিএলও-র সঙ্গে ফের কথা বলতে চাননি সিইও দপ্তরের পদস্থ কর্তা। যদিও এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপেও রাজি নন তিনি। আপাতত খসড়া ভোটার তালিকায় যদি নাম না ওঠে সেক্ষেত্রে পদক্ষেপ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট বিএলও যে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম বিলি বা সংগ্রহ করেননি সেকথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন সিইও দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তা নিজেই।

অন্যদিকে, রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন ” পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য যেখানে কোনও বিএলও অথবা সুপারভাইজার বা ইআরও-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেটা কমিশনের লক্ষ্য নয়। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাহত করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ৩১ ধারা অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামী ১১ ডিসেম্বরের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।”

Share with