৬০ লক্ষ ভোটারের বিন্যাসের আকর্ষণ নিয়েই শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
শনিবার অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। রাজ্যে নজিরবিহীন এসআইআর পর্ব শেষে এই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এখন নজর রাজ্যবাসীর। শুধু কত নাম বাদ পরতে পারে তাই নয়, এই তালিকার মূল আকর্ষণ হতে পারে বিচারাধীন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জ্ঞন ভোটারের পরিচয় বা বিন্যাস। এদের মধ্যে কারা অধিকাংশ ? তাঁদের পরিচয় বা শ্রেণীগত পরিচয় কি ? নির্দিষ্ট কোনও কোনও জেলা থেকে এই বিয়োজন নাকি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের তথ্যগত অসঙ্গতির প্রতিফলন এই তালিকা তা নিয়েই শনিবারের পর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হবে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের ৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ভোটার তালিকা থেকে মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, ভুয়ো এবং ডুপ্লিকেট ভোটার হিসেবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেখানে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৬৯৯ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এরপর শুনানিতে গরহাজিরা (৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ) , অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত ( ৫ লক্ষাধিক) ছাড়াও ফর্ম ৭ জনিত কারণে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। একইসঙ্গে ফর্ম ৬ এর মাধ্যমে লক্ষাধিক ভোটারের নম সংযুক্ত হবে এই তালিকায়। অর্থাৎ ৫৮ লক্ষের পর আরও কমবেশি সাত-আট লক্ষ লোকের নাম বাদ যেতে পারে চুড়ান্ত ভোটার তালিকায়। এছাড়া বিচারকদের বিবেচনাধীন থাকতে হবে আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ ভোটারকে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অনলাইন এবং অফলাইন দুভাবেই দেখা যাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। শনিবার দুপুরে eci .gov.in কমিশনের এই মূল ওয়েবসাইটে তালিকা দেখতে পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে তালিকা প্রকাশিত হবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের ওয়েবসাইটেও (ceowestbengal.wb.gov.in)। পাশাপাশি ইসিআইনেট অ্যাপে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা দেখতে পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপে গিয়ে নিজের এপিক কার্ড নম্বর বা ভোটার কার্ডের নম্বর টাইপ করলেই তালিকায় নাম রয়েছে কিনা তা জানা যাবে। জেলায় জেলায় জেলা নির্বাচনী আধিকারিক অথবা জেলাশাসকদের ওয়েবসাইটে গিয়েও তালিকা দেখতে পাওয়া যাবে। অনলাইন ছাড়াও অফলাইনে তালিকা দেখা যাবে। রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির কাছে পেনড্রাইভ এর মাধ্যমে দুটি করে কপি তুলে দেবে রাজ্যস্তরে সিইও দপ্তর এবং জেলাস্তরে ডিইও দপ্তর। প্রয়োজনে সেখানে গিয়েও আপনি আপনার নাম তালিকায় রয়েছে কিনা তা জানতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর, মহকুমা শাসকের দপ্তর, বিডি অফিসে তালিকা দেখতে পাওয়া যাবে।
তালিকার ফরম্যাট কি হবে? অর্থাৎ কাদের নাম তালিকায় থাকবে বা কি কি ক্যাটেগরিতে থাকবে সেটাও জানিয়েছেন কমিশনের কর্তারা। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের মতে, খসড়া ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে প্রায় সকলেরই নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে থাকবে। মূল তালিকা প্রথম অংশে যাদের নাম নিশ্চিত হয়েছে তাদের নাম থাকবে। নামের পাশে তাদের এপিক কার্ড নম্বর দেওয়া থাকবে। যে ভোটাররা যোগ্য বলে বিবেচিত হননি অর্থাৎ খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অসঙ্গতি বা সঠিক তথ্য প্রমাণের অভাবে যারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না তাদের নামও উল্লেখ থাকবে তবে নামের পাশে ‘deleted’ “ডিলিটেড’ বলে উল্লেখ থাকবে। যে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ ভোটারের ভাগ্য এখন বিচার বিভাগের বিবেচনাধীন তাঁদের নাম ও এই চূড়ান্ত তালিকায় সংযোজিত থাকবে তবে তাঁদের নামের পাশে বিচারাধীন বলে উল্লেখ করা থাকবে। তাঁদের মধ্যে যারা বিচারকদের বিচার পদ্ধতিতে উত্তীর্ণ হবেন তাহলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত পদ্ধতিতে অতিরিক্ত তালিকায় তাঁরা স্থান পাবেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ২০২৫ সালে কত ভোটার ছিলেন তারও উল্লেখ থাকবে।

