হেডলাইন

৩৫ লক্ষের ভোটভাগ্য সেই তিমিরেই ! ২৫ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের জন্য সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যেয় প্রকাশিত হতে চলেছে বিচারাধীন ভোটারদের জন্য প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। কমবেশি ২৫ লক্ষ নিষ্পত্তি হওয়া বিচারাধীন ভোটারের নাম এই তালিকায় বিবেচিত হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যে বিচারাধীন ভোটার সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। তার ঠিক ২৪ ঘন্টা আগে বিচারাধীন ভোটারদের জন্য প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ উদ্যোগে। ইতিমধ্যেই তালিকা প্রকাশের পর তা নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে অথবা নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার অভিযোগের শুনানির জন্য পৃথক অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সুপারিশের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনালগুলি গঠন করা হয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে ‘কিছু করে দেখানোর’ তাগিদ থেকেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দ্রুত প্রকাশ ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে। এই ট্রাইব্যুনালগুলি মূলত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনবে। তবে নির্বাচনের আগে বাকি প্রায় কমবেশি ৩৫ লক্ষ ভোটারের জন্য ফের কোনও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে কিনা তা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেনি আদালত বা কমিশন কোনও পক্ষই। তাহলে বাকি ৩৫ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারদের ভোটভাগ্য ঝুলেই রইল তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের ২৪ টি নির্বাচনী জেলাতেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের অ্যাপেলেট অথরিটি হিসেবে নিয়োগ করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে রাজ্যে জেলাওয়ারি এই ট্রাইবুনাল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। যার মধ্যে কিছুদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অবসর নেওয়া প্রধান বিচারপতি টি এস শিব্জ্ঞানম যেমন রয়েছেন তেমনি কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত কুমার বাগ সহ আরও ১৮ জন বিচারপতি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন হিসেবে নাম থাকলেও সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যদি নাম না ওঠে সেক্ষেত্রে কোন ভোটার বা ব্যক্তির আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি আপিল বা আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিচারিক আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই ট্রাইব্যুনালেই আপিল শোনা হবে। আপিল করা যাবে অনলাইনে, ECI NET অ্যাপসের মাধ্যমে। অন্যথায় জেলাশাসক বা ডিইও এবং মহকুমা শাসকের মাধ্যমেও সরাসরি আবেদন জমা দেওয়া যাবে। প্রশাসন সেই আবেদনগুলি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড করবে। সংশ্লিষ্ট জেলার সমস্ত আপিল নিষ্পত্তি হয়ে গেলে ওই ট্রাইব্যুনালের কাজও শেষ হয়ে যাবে। মূলত, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতেই ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বলে মনে করা হচ্ছে। খুব দ্রুত এই ট্রাইব্যুনালগুলি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

Share with