মহাজাগতিক নিয়মে আজ ‘কমরেড’ চাঁদ-কে ‘লাল সেলাম ‘ জানাবে পৃথিবী
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নায় ভাসতে ভাসতে আজ ‘ কমরেড ‘ চাঁদ-কে ‘ লাল সেলাম ‘ জানাবে পৃথিবী। যুদ্ধের সংকেত হিসেবে ইঙ্গিতবাহী হলেও প্রলয় পেরিয়ে নতুন সৃষ্টির কথা বলে এই ‘ ব্লাড মুন ‘ বা ‘রক্তিম চাঁদ ‘। রক্তিম চাঁদের আলোয় আজ সবার অধিকার। কোনো শ্রেণী, অর্থ, ধর্ম, বর্ণের বাধা নেই। শুধু বাধা আছে পৃথিবীর অবস্থান এবং মহাকাশের ধূলিকণা ও জলকণার পরিমাণে। অবশ্যই প্রয়োজন পরিস্কার আকাশ।
ইনকা, মেসোপটেমিয়া, চিনসহ পৃথিবীর আদিম সভ্যতাগুলিতে এই ব্লাড মুন বা রক্তিম চাঁদের অনেক কাহিনী আছে। পূর্ণিমার চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে একই সরলরেখায় ঢুকে পৃথিবী বিরাট ছায়ায় চাঁদকে গ্রাস করে একথা তো আমরা প্রায় সকলেই জানি। কিন্তু আলোকে কি এভাবে আটকে রাখা যায়? বাধা তো সে পেরোবেই। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এক দুর্দান্ত বিস্তৃত প্রিজম। সেখানে ধূলিকণা, গ্যাস, জলকণা, আগ্নেয়গিরির ছাই সব মিলেমিশে আছে। ওদিকে পৃথিবীর উপরে এসে পড়ছে সূর্যের আলো। এই বিচিত্র প্রিজমের মধ্যে সূর্যের সাদা আলো সাতটি বর্ণে ভেঙে যায়। অর্থাৎ সেই রামধনুর সাতটি ঘোড়া। সবথেকে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো অর্থাৎ বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ বায়ুমন্ডলে বিক্ষিপ্ত হয় সহজে। কিন্তু হলুদ, কমলা, লাল, যাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি, তারা প্রতিসরণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল ভেদ করে পৃথিবীর গা ঘেঁষে দিগন্তরেখার ওপারে চলে যায়। যা হল রেইলি স্ক্যাটারিং। সেই কারণেই উদিত এবং অস্তগামী সূর্য লাল, আর দিনের আকাশ নীল। আমাদের চোখে দেখা আলোর মধ্যে লালের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবথেকে বেশি। তাই সেই বিশাল প্রিজম ভেদ করে লাল ঘোড়াটি পৃথিবী পেরিয়ে ছুঁয়ে ফেলে চাঁদকে। এই কারণেই পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদকে একটু তামাটে বা লালচে দেখায়। ঠিক কতটা গাঢ় লাল রঙের চাঁদ দেখা যাবে সেটা অবশ্যই নির্ভর করছে বায়ুমণ্ডলের ধুলি ও জলকণার পরিমাণের উপর। তবে লাল রঙটি বুঝতে কোনও সমস্যা হয় না।
যে দেশগুলি পূর্ব গোলার্ধের, শুধু তারাই আজ এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবে। অর্থ্যাৎ, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, এশিয়া, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ জুড়ে এই রক্তিম চাঁদ দেখা যাবে আজ। ভারতে এই পূর্ণগ্রাসের সময় রাত ৮:৫৮ থেকে ২:২৫ পর্যন্ত। যা এই দশকের দীর্ঘতম গ্রহণ। ব্লাড মুন দেখা যাবে রাত ১১ টা থেকে ১২:২২ পর্যন্ত, অর্থাৎ যতক্ষণ চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে থাকবে।

