Uncategorized

মহারাষ্ট্র সমস্যা এড়াতে বুথ বিন্যাসের সর্বদলে বিএলএ নিযুক্তিতে জোর দিতে চায় সিইও দফতর

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

রাজ্যের বর্ধিত বুথবিন্যাস নিয়ে স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত জানতে শুক্রবার সর্বদল বৈঠক হতে চলেছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে। ইতিমধ্যেই বর্ধিত বুথবিন্যাসের প্রস্তাবিত তালিকা স্বীকৃত আটটি রাজনৈতিক দলকে পাঠানো হয়েছে। সর্বদলে সেই তালিকা নিয়েই রাজ্যের শাসক-বিরোধী সব রাজনৈতিক পক্ষের বক্তব্য জানতে চাইবে সিইও দফতর। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির বিকল্প প্রস্তাব থাকলে তা বিবেচনা করা হবে। বর্ধিত বুথের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির কাছে প্রতি বুথে বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ নিযুক্ত করার আবেদন জানাবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। বিশেষত, মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে ছাব্বিশের বাংলায় না হয় সেকথা মাথায় রেখেই শুক্রবারের সর্বদলে বুথে বুথে সব রাজনৈতিক দলের বিএলএ নিযুক্তির বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন সিইও দফতর। এখনও বুথপ্রতি বিএলএ নিযুক্তি নিয়ে সেভাবে আগ্রহ দেখায়নি রাজ্যের স্বীকৃত আট রাজনৈতিক দল।

উল্লেখযোগ্য, নির্বাচন কমিশনের নয়া নিয়মে বুথ প্রতি সর্বাধিক ১,২০০ ভোটার থাকার নিরিখে রাজ্যে ১৩ হাজার ৮১৬টি ভোট বুথ বাড়তে চলছে। রাজ্যে বর্তমানে ভোট বুথের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৮১। জেলাশাসকদের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী বর্তমান বুথ সংখ্যার সঙ্গে বর্ধিত বুথ যোগ হলে রাজ্যে মোট ভোট বুথের সংখ্যা দাঁড়াবে ৯৪ হাজার ৪৯৭। তদনুযায়ী বুথ প্রতি আট দলের বিএলএ থাকার হিসেবে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭ লক্ষ ৫৬ হাজার বিএলএ থাকার কথা। অথচ এখনো পর্যন্ত আট দল মিলিয়ে ১৫-১৬ হাজার বিএলএ-র তালিকা সিইও দফতরে এসে পৌঁছেছে। অর্থ্যাৎ, শতাংশের নিরিখে নগণ্য বলা চলে। যদিও নির্বাচনের এখনো অনেকটাই বাকি, তাই নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংখ্যায় বিএলএ মিলবে এমনটাই আশাবাদী রাজ্য সিইও দফতর। যেহেতু ভোটার তালিকায় সংশোধন থেকে ভোটের দিনে বুথে ন্যায্য ভোটারের ভোটদান সবক্ষেত্রেই বুথ লেভেল এজেন্টদের ভুমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সেকারণে রাজনৈতিক দলগুলি যাতে বুথে বুথে বিএলএ নিযুক্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তালিকা তাদের কাছে তুলে দেয় সর্বদলে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে সেই আর্জি জানাতে চান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।

বলা বাহুল্য, মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। এরপর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়েও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাহুল গান্ধী ও বিরোধীপক্ষের নেতাদের সংঘাত চরমে ওঠে।
কমিশনের মতে, ভোটার তালিকা তৈরি থেকে বুথে ভোটদান পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল গুলোকে বিএলএ নিযুক্ত করার জন্য বারবার আবেদন জানানো হয়েছে।
ভোটের আগে বা ভোটের দিন ভোটার তালিকা অথবা ভোট দান সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় কংগ্রেসের বিএলএ-দের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়নি। ভোট পরবর্তী সময়ে জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার নির্বাচন কমিশনকে যেভাবে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে তা শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই নয় এই দাবি অন্যায্য এবং আইনসিদ্ধ নয়। তাই মহারাষ্ট্র বিধানসভার নির্বাচনের মত ঘটনা যাতে ছাব্বিশের বঙ্গে না ঘটে সেজন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিএলএ নিযুক্ত করার আবেদন জানাতে চায় রাজ্য সিইও দপ্তর।

প্রসঙ্গত, জেলাগুলি থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভোটের বুথ রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, ৮,৮৫৯। প্রস্তাবিত বুথ সংখ্যা হল ১০,৪১০। দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা, বর্তমানে বুথ সংখ্যা ৮,৬৫৮, প্রস্তাবিত বুথ সংখ্যা হল ১০,০৫৪। তৃতীয় স্থানে মুর্শিদাবাদ, বর্তমানে বুথ সংখ্যা ৫,৮৯৫, প্রস্তাবিত বুথ সংখ্যা হল ৭,১৪৬। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে হুগলি ও নদিয়া।
জেলাশাসকদের রিপোর্ট ও রাজনৈতিক দলগুলির রিপোর্টের সমন্বয়ে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারিত হবে এবং সেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে নির্বাচন কমিশনে। তারপর রাজ্যের ভোট বুথের সংখ্যা নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি আকারে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের নয়া বুথ বিন্যাস ঘোষণা করবে।

Share with