মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি সত্বেও বহুতলে ভোটের বুথ তৈরিতে মরিয়া কমিশন, ডিইও-দের নয়া ফরমান
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
‘ একবার না পরিলে দেখো শতবার ‘ । এই প্রবাদবাক্যই যেন রাজ্যের বহুতলগুলিতে ভোটের বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মূল থিম নির্বাচন কমিশনের। আর এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করতে প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না কমিশন নয়া নির্দেশিকায় সেকথাও বুঝিয়ে দিয়েছে কমিশন।
বহুতলে বুথ তৈরি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন কোনও আবেদন জমা পড়ল না বুধবার সিইও দপ্তরের কাছে তা জানতে চায় কমিশন। দু’বার বলা সত্ত্বেও কোনও বহুতলে নতুন ভোটকেন্দ্রের প্রস্তাব পশ্চিমবঙ্গে থেকে পাঠানো হয়নি। রাজ্যের জেলায় জেলায় কমিশনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হলেও কোনও ডিইও-র পক্ষ থেকে এব্যপারে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে জানায় সিইও দপ্তর। এই বিষয়টি যে কমিশন হালকাভাবে দেখছে না সেকথা বুঝিয়ে দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে জেলাশাসকদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যের ক্ষেত্রে কি বলা রয়েছে তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনীয় জায়গায় বুথ না হলে তার দায় জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) নিতে হবে বলেও জানানো হযেছে। উল্লেখযোগ্য, বহুতলে বুথ করা নির্বাচনী আইন বিরোধী এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও বিপদসঙ্কেত বলে উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজ্যে বিধানসভা ভিত্তিক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকা প্রকাশের পর বহুতল আবাসন, গ্রুপ হাউজিং সোসাইটি, RWA কলোনি, বস্তি এলাকায় ভোটের বুথ নিয়ে নতুন সমীক্ষা করতে হবে বলে নির্দেশ কমিশনের। ২৫০ বাড়ি অথবা ৫০০ ভোটার রয়েছেন এরকম বস্তি বা বহুতলে সমীক্ষা করে ভোটকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দিতে হবে। সব ডিইও-দের এই নির্দেশ কঠোর ভাবে মানতে হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন। এদিকে আজই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নতুন বুথের পুনর্বিন্যাসের কাজ করা হবে রাজ্যে। অর্থ্যত, বুথ পুনর্বিন্যাস বা সংযুক্তিকরণের কাজও প্রায় দু’মাস পিছিয়ে দিল কমিশন। আধিকারিকদের ধারণা, বহুতলে ভোটের বুথ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বুথ পুনর্বিন্যাসের দিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তবে বহুতলে বুথ তৈরির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া চিঠি এই বিষয়ে ঘৃতাহুতি দিয়েছে বলেও মনে করছেন পদাধিকারীরা।

