মুখ্যমন্ত্রীর দাবি নস্যাৎ সিইওর, লক্ষাধিক নথি আপলোড না হওয়ায় হবে পদক্ষেপ
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
নির্দিষ্ট সময় পেরোলেও রাজ্যে লক্ষাধিক ভোটারের নথি আপলোড না হওয়ার কারণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি নস্যাৎ করে সংশ্লিষ্ট
ইআরও এবং এইআরও দের কাঠগড়ায় তুললেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। উল্টে সংশ্লিষ্ট ইআরও এবং এইআরও দের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ভাবনা সিইও দপ্তরের।
মালদহ, কালিম্পঙ ও ঝাড়গ্রাম বাদে রাজ্যের বাকি ২১ টি জেলায় ডেডলাইন পেরিয়ে গেলেও মোট ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৭২ জন ভোটারের শুনানি পর্বের নথি আপলোড হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ই আর ও নেট বা নটি আপলোড সংক্রান্ত নির্দিষ্ট পোর্টাল নির্দিষ্ট সময়ের দু’ঘণ্টা আগে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু ভোটারের নদী আপলোড করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নির্বাচন কমিশনকে “তুঘলকি কমিশন” বলেও কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পক্ষান্তরে সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন ” কখন সিস্টেম বন্ধ হবে তা ইআরও-রা সবকিছুই জানতেন। তাঁরা জেনেশুনেই নথি আপলোড করেননি।” বরং নির্দিষ্ট ডেডলাইন মেনে নথি আপলোড না হওয়া নিয়ে এবার পদক্ষেপ করতে চলেছে সিইও দপ্তর। মূলত, সংশ্লিষ্ট ইআরও এবং এইআরও-দের কাঠগড়ায় তুলে এব্যাপারে তাঁদের শো-কজ করতে চান রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। তবে যে ২১ টি জেলায় এধরনের ঘটনা ঘটেছে সেই জেলার জেলাশাসক বা ডিইও-দের লিখিত দিতে হবে যে তাঁর জেলায় বকেয়া নথির মধ্যে কতগুলি কমিশন নির্দিষ্ট নথি রয়েছে। কারণ সিইও দপ্তর নিশ্চিত হতে চায় ২১ টি জেলায় মোট ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৭২ জন ভোটারের যে নথি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপলোড হয়নি তার মধ্যে কতগুলি কমিশন নির্দিষ্ট নথি। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকরা সই করে নির্দিষ্টভাবে রিপোর্ট পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট ইআরও-এইআরও দের জবাব তলব করবেন সিইও। প্রশ্ন, নথি আপলোড না হলে যোগ্য ভোটারদের ভোগান্তি বাড়বে জেনেও কেন এমন কাজ করবেন ইআরও-এইআরও রা ? সিইও-র সাফ জবাব
” ধীরে চলো পদ্ধতিতে এগোতে চেষ্টা করেছেন তাঁরা। যাতে সময়ের অভাবে তাঁদের গাফিলতিগুলো রোল অবজার্ভারদের চোখ এড়িয়ে যায়। কিন্তু কমিশনের রেডারে কেউ রেহাই পাবেন না।”
প্রাথমিকভাবে এই ১ লক্ষ ১৪ হাজার ২৭৭ জন ভোটারের নাম চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে না। তবে উপযুক্ত নথি যে ভোটাররা জমা দিয়েছেন অথচ নির্দিষ্ট সময়ে তা আপলোড হয়নি সেই ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষায় তাঁদের বাড়িতে ফর্ম ৬ ( নাম তোলার ফর্ম) পাঠাবে কমিশন। সংশ্লিষ্ট বিএলও দের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি ফর্ম পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সিইও। সে ফর্ম পূরণের মাধ্যমে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় জায়গা পাবে। তবে যাদের নথি উপযুক্ত নয় তাদের নাম ভোটার তালিকায় জায়গা পাবে না। সেক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তের উপরেই বহু ভোটারের ভাগ্য ঝুলে থাকবে। তবে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নাম বাদ পড়া ভোটাররা প্রথমে ডিইও এবং পরে সিইও-কে লিখিত আবেদন জানাতে পড়বেন। সবকিছু খতিয়ে দেখে যদি তাঁদের আবেদন যুক্তিগ্রাহ্য হয় তাহলে তাঁরাও ভোটাধিকার ফিরে পাবেন।

