নিয়ম মেনে ভোট হলে কোটির ঘরে বাদের তালিকা ?? ৬০ লক্ষের ভোটভাগ্য নিয়ে দায় ঠেলাঠেলি !!
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সময় যত এগোচ্ছে ততই অনিশ্চিত হচ্ছে বিচারাধীন ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের ভোটভাগ্য। নির্দিষ্ট রীতি মেনে ভোট ঘোষণা হলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার হারানোর সংখ্যা কোটির অঙ্ক ছুঁতে পারে বলে মনে করছেন কমিশনের পদস্থরাই। অন্যদিকে, আগামী ১০ মার্চ কমিশনের ফুল বেঞ্চ কলকাতায় থাকাকালীন বিচারাধীন ভোটার সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। যদি রাজ্য প্রশাসন বা রাজনৈতিক দলগুলো সেখানে বিচারাধীন ভোটারদের ভোটভাগ্য মীমাংসা করার পর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার দাবিতে অনড় থাকে তাহলে সেই দাবি মেনেও নিতে পারে নির্বাচন কমিশন বলে ইঙ্গিত মিলেছে সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যেই ধরণায় বসেছেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও।
সেক্ষেত্রে নাম বাদের তালিকা কমার সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বিচারকরা কত দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারবেন তার উপরেই নির্ভর করবে বঙ্গের নির্বচনী সিডিউল। তখন বাকি চার নির্বাচনমুখী রাজ্যের প্রেক্ষিতে কমিশন বঙ্গের জন্য কোনও বিরল সিদ্ধান্ত নেয় কিনা নজর রয়েছে সেদিকেও।
আদালত সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিচারাধীন ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণে নিযুক্ত হয়েছেন রাজ্যের ৫০৫ জন বিচারক। দশ দিন গড়িয়ে যাওয়ার পরও যাঁরা প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নথি নিষ্পত্তি করতে পেরেছেন। মোট বিচারাধীন ভোটারের বিচারে যা প্রায় ১০%। যদিও এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভোটাধিকার মিলবে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি আদালত অথবা রাজ্য প্রশাসন এমনকি সিইও দপ্তর বা কমিশনও। শনিবার ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে আরও ২০০ বিচারক এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কথা। এদেরকে প্রশিক্ষণ ও লগ ইন আইডি দিয়ে কাজ শুরু করাতেও বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে যাবে।
মূলত, বীরভূম, হুগলি, নদিয়া, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা ও দুই বর্ধমান জেলার জন্য এঁদের কাজে লাগানো হবে। যদিও বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হলেও বিচারাধীন ভোটাররা কতটা সুবিচার পাবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। নথি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার কাজে যা গতি তাতে নিয়ম মেনে ভোট করতে হলে কমবেশি ২০ লক্ষ ভোটারের নথি নিষ্পত্তি হতে পারে। অতএব প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই যাবে। স্বাভাবিক ভাবেই খসড়া ও চুড়ান্ত ভোটার তালিকা মিলিয়ে ৬৩ লক্ষের বেশি ভোটারের নামের সঙ্গে আরও প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম যুক্ত হতে পারে। তাহলে স্বাভাবিক অঙ্কের নিয়মে কোটির ঘরে পৌঁছবে বাদ পড়া ভোটারের তালিকা।
আগামী রবিবার কলকাতায় পৌঁছচ্ছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। রীতি অনুযায়ী তার কয়েকদিন পরেই ভোট ঘোষণা হওয়ার কথা। কিন্তু ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ ভোটারদের ভোট ভাগ্য এখনও অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছে। এই বিশাল সংখ্যার ভোটারদের দায়িত্ব কে নেবে তা নিয়ে এখন ‘ঠেলাঠেলির সংসার’।
অথচ দীর্ঘ সময় ধরে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকারের স্বপক্ষে নথি জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কর্মীদের ভুল অথবা প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিকল্পনা বদলের দরুন যে জটিলতা তৈরি হয় তারই খেসারত দিতে বিচারাধীন তকমা জুটেছে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ ভোটারের।
তাঁদের সুবিচারের প্রশ্নে রাজ্যের সিইও দপ্তর তথা নির্বাচন কমিশন আঙুল দেখাচ্ছে বিচারব্যবস্থার দিকে। কমিশনের পাল্টা দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয়টি মীমাংসা করা হবে, সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই অঙ্গীকার করে সম্মতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ও রাজ্য প্রশাসন। সেক্ষেত্রে বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয়ে দায়িত্ব তাঁদেরই। আর এই পারস্পরিক দোষারোপ ও দায় ঠেলাঠেলির খেলায় আখেড়ে বহু লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার যে বিপন্ন তা বলাই বাহুল্য। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন ” বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে কোনও ভুলভ্রান্তি হয়েছে কিনা তার জন্য রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখব।” অবশ্য সিইও-র এই বক্তব্যে বিচারাধীনদের আস্থা ফিরবে কি ? সন্দেহ দূর হয়নি এখনও।

