নির্বাচন কমিশনের বদান্যতায় রাজ্যে বাড়ছে এসডিও, সিদ্ধান্ত রাজ্য মন্ত্রিসভায়
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্য-নির্বাচন কমিশন সংঘাতের আবহেই রাজ্যের সিভিল সার্ভিস ক্যাডারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের সৌজন্যে সুখবর।
অবশেষে রাজ্যে এসডিও বা মহকুমা শাসকদের অভাব দূর করতে রাজ্য সিভিল সার্ভিস ক্যাডারদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল নবান্ন। মঙ্গলবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে নয়া সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার থেকে রাজ্য সিভিল সার্ভিস এক্সিকিউটিভ ক্যাডারের আধিকারিকরা দু’বছর প্রবেশন পিরিয়ড সম্পূর্ণ করার পর বিডিও হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তিন বছর ভিডিও হিসেবে কাজ করার পর সরাসরি এসডিও বা মহকুমা শাসক পদে উন্নীত হবেন ওই রাজ্য সিভিল সার্ভিসের ক্যাডাররা। এতদিন ডাব্লিউ বি সি এস এক্সিকিউটিভ ক্যাডার রা ন্যূনতম ৭ বছর ভিডিও পদে কাজ করার পর এসডিও পদে উন্নীত হতেন। ফলে এবার থেকে তিন বছরের বেশি যারা ভিডিও হিসেবে রাজ্যে কর্মরত রয়েছেন তারা সরাসরি এসডিও পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় গৃহীত এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ” পশ্চিমবঙ্গে একদিকে যেমন জেলার সংখ্যা কম সেই অনুযায়ী মহাকুমার সংখ্যাও কম। সে কারণেই রাজ্যে এসডিও পদমর্যাদার আধিকারিকদের সংখ্যা কম হওয়ায় এসআইআর পর্বে তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সে কারণেই রাজ্য মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত।” প্রসঙ্গত, রাজ্য পুলিশ ক্যাডারদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা নেই। কারণ রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে ক্যাডারদের প্রথম দুবছর প্রবেশন বা শিক্ষানবিশ পর্ব কাটিয়েই সরাসরি ডব্লুবিপিএস হিসেবে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হন ক্যাডাররা। রাজ্যের গ্রুপ এ পর্যায়ের আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও সম আইন প্রযোজ্য হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মূলত, নির্বাচন কমিশনরার বদান্যতায় রাজ্যের এই নয়া সিদ্ধান্ত সেকথা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ। যেহেতু এসআইআর পর্বের শুরু থেকেই ইআরও হিসেবে এসডিও পদমর্যাদার আধিকারিকের স্বল্পতা নিয়ে যথেষ্ট জলঘোলা হয়েছে। কমিশন ও রাজ্যের সংঘাত তীব্র হয়েছে। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন পদস্থ আধিকারিকরা। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে যে অনুঘটকের ভূমিকা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কমিশনের কর্তারা।

