নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের তালিকায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব! ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত কমিশনের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ফের ব্যতিক্রমী নির্বাচন কমিশন। আসন্ন ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য থেকে যে ১৫ জন আইএএস ও ১০ জন আইপিএস ক্যাডারকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন খোদ রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনা। আর এনিয়েই এখন সরগরম প্রশাসনিক মহল। নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সিইও-কে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছে, তিনটি ব্যাচে ভাগ করে দিল্লিতে আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি আসন্ন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাঁদের কাজ ও দায়িত্ব নিয়ে ব্যাখ্যা দেবে নির্বাচন কমিশন। এদেরকে কাজের জন্য ভিনরাজ্যে যেতে হতে পারে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে। শুধু রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবই নয়, এই তালিকায় অন্যান্য সিনিয়র আইএএস আধিকারিকদের সঙ্গে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী সহ আসানসোলের পুলিশ কমিশনারের নামও রয়েছে। উল্লেখযোগ্য, এর আগে কোনও রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হননি। এক্ষেত্রে কমিশনের দেওয়া এই তালিকা যে ব্যতিক্রমী তা বলাই বাহুল্য। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবসহ, মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়ের সচিবরাও এই তালিকাভুক্ত রয়েছেন। কিন্তু একজন স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব যিনি সামলাচ্ছেন তিনি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছেড়ে অন্য রাজ্যে নির্বাচনের পর্যবেক্ষক এর দায়িত্ব পালন করতে যাবেন ? রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন ” এক্ষেত্রে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে জগদীশ প্রসাদ মিনাকে ডাকা হয়নি। রাজ্য ক্যাডারের একজন সিনিয়ার আইএএস হিসেবে তাঁকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।” যদিও অন্য যুক্তি রয়েছে যে জগদীশপ্রসাদ মিনা রাজ্য কর্মিবর্গ ও প্রশাসন দপ্তরের সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রাজ্য স্বরাস্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এখনও অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদমর্যাদা পাননি। সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রসচিবের পদে তিনি কম গুরুত্বের কাজ করেন। সে ক্ষেত্রে তাঁকে কমিশন। উল্লেখযোগ্য, ২০২৩ সাল থেকেই রাজ্যে অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পদমর্যাদার কোন আধিকারিককে নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত করে না কমিশন। যেহেতু জগদীশপ্রসাদ মিনা সেই পর্যায়ে পড়েন না সে ক্ষেত্রে অসুবিধা কোথায় ? পাল্টা প্রশ্ন পদস্থ আধিকারিকদের। তাহলে কি রাজ্য সরকার যদি এই তালিকা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারে ? সিইও জানিয়েছেন ” রাজ্য চাইলে আবেদন করতেই পারে। কমিশন তাঁর সিদ্ধান্ত জানাবে।” ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রথম সারির আইএএসদের রাজ্যে চলা বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রক্রিয়া দেখভালের জন্য জেলায় জেলায় দায়িত্ব দিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের এই নয়া তালিকা রাজ্যের পরিকল্পনায় ব্যাঘাত হটাতে পারে বলে আশঙ্কা।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ নভেম্বর কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের তালিকা তৈরির জন্য ১৯৯৬ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত কার্যক্রেটারির যত আইএএস এবং আইপিএস রয়েছেন তাঁদের নাম তালিকা পাঠানোর জন্য নবান্নকে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু রাজ্যের পক্ষ থেকে কোন সদুত্তর না পাওয়ায় তারপর তিনবার রাজ্যকে রিমাইন্ডার দিয়ে চিঠি দেয় কমিশন। তাতেও কমিশনকে তালিকা পাঠায়নি রাজ্য। এরপর রাজ্যের আইএএস এবং আইপিএস ক্যাডারের তালিকা থেকে প্রমাণ নয় নাম নির্বাচন করে স্বতপ্রণোদিতভাবে তালিকা তৈরি করে কমিশন।

