হেডলাইন

নির্বাচনী স্বচ্ছ্বতার স্বার্থে সাংবিধানিক ক্ষমতার সরাসরি প্রয়োগ চায় কমিশন

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্বাচনকে ১০০ % স্বচ্ছ্ব, নিরপেক্ষ ও অবাধ করতে নির্বাচনী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সংবিধানের ৩১১ নম্বর ধারার প্রয়োগ করবে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর এমনটাই জানালেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। রবিবার নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের কড়া বিবৃতির পর সোমবার সকালে রাজ্যের সিইও-র সঙ্গেও একপ্রস্থ আলোচনা হয় জ্ঞানেশ কুমারের। সেখানেই নির্বাচনকে সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ্ব করতে প্রয়োজনে সাংবিধানিক ক্ষমতাকে কড়া হাতে প্রয়োগ করার নির্দেশ দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সংবিধানের ৩১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিক বা নিরাপত্তাকর্মী যদি নির্বাচনী কর্তব্যে গাফিলতি করেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় তদন্ত বা ডিওপিটি না করে সরাসরি সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁকে নির্বাচনী কাজ থেকে সরিয়ে দিতে পারে কমিশন। অভিযুক্তকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে তাঁকে অবসরকালীন যাবতীয় প্রাপ্য থেকেও বঞ্চিত করতে পারে কমিশন। এই সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা মামলা আদালতগ্রাহ্য নয়। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনকে অভিযোগমুক্ত করতে এবারই প্রথম সিইও দপ্তরে ‘পাবলিক কমপ্লেন সেল’ তৈরি করা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই জেলায় জেলায় সেই বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হবে। এই সেলের কাছে যা অভিযোগ আসবে তার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিইও বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হবে। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন ” আগে কি হয়েছে তা নিয়ে ময়না তদন্ত করতে চায় না কমিশন। তবে রবিবার ভোট ঘোষণার পর থেকে ভোট শেষ পর্যন্ত কোনওভাবে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে দেওয়া হবে না। যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয় এবং ভোট ঘোষণার পর গোটা রাজ্য প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে কাজ করে ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাজ্যের সিইও হিসেবে কখনই তা বরদাস্ত করব না।”

সিইও জানিয়েছেন এবার ভোটের বুথের যাবতীয় নিরাপত্তা থেকে ভোট সরঞ্জামের দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কর্মীদের আগে ভোটের বুথে পৌঁছে যাবে বাহিনী। ইভিএম থেকে ভিভিপ্যাট, ওয়েবক্যাম থেকে ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি সরঞ্জাম ও ভোটকর্মীদের নিরাপত্তার যাবতীয় দায়িত্ব নিতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। প্রতিটি বুথে ১০০ শতাংশ ওয়েবক্যাম থাকার পাশাপাশি স্পর্শকাতর বুথগুলিতে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েবক্যাম এবং ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা থাকবে। যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে ড্রোন মারফত নজরদারি করা হবে।
সিইও আরও জানিয়েছেন যে এবারই প্রথম বাধ্যতামূলকভাবে ভোটারদের বাড়িতে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট বিএলও-রা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিযে ভোটের পাঁচ দিন আগে ভোটার স্লিপ দিয়ে আসবেন।

Share with