হেডলাইন

নিয়ম বদলেও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছয়নি কমিশন, সাত ডিইও-র সঙ্গে বৈঠক করবেন জ্ঞানেশ ভারতী

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

নিয়মের বদল করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে কি কমিশন ? বহুতলে ভোটের বুথ করার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে প্রচলিত নিয়মের বদল করেও এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যপুরণ হয়নি। মঙ্গলবার কলকাতায় আসছেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। তিনি সিইও দপ্তরে এই বিষয়ে আধিকারিক এবং শহরাঞ্চলের ছয জেলার সাত ডিইও-র সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করবেন।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১ এর ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী এবং প্রিজাইডিং অফিসারের হ্যান্ডবুকে উল্লিখিত ( ২.১ অনুচ্ছেদ থেকে ৭.৫ অনুছেদ) রয়েছে যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই বুথ পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করতে হবে। এতদিন ধরে এই নিয়মেই কাজ করে এসেছে রাজ্যের সিইও দপ্তর। এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই নিয়মের বদল ঘটিয়েছে খোদ কমিশন। প্রথমত, রাজ্যের শহর ও শহরাঞ্চলের ভোটের শতাংশ বাড়াতে আকাশচুম্বী বহুতলের মধ্যেই ভোটের বুথ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও দুবার রাজ্যের সমস্ত ডিইওদের চিঠি পাঠিয়েও এই পরিকল্পনায় তেমন সাড়া মেলেনি। রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকেও যেমন এই পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে তেমনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দেন এবং কমিশনের এধরনের পরিকল্পনার এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যদিও তাতেও দমেনি নির্বাচন কমিশন। কলকাতা শহর ও আরও পাঁচটি জেলাকে নির্বাচিত করে এই ছয় জেলার ডিইওদের কাছে বহুতলের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেয় কমিশন। সেক্ষেত্রে ৪০০ ভোটার রয়েছে এরকম বহুতলে ভোটের বুথ তৈরি করার জন্য নির্দিষ্ট তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেয় কমিশন। গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলেও বুথ পুনর্ববিন্যাসের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এসআইআর প্রক্রিয়া চলার কারণেই আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের বুথ পুনর্বিন্যাসের ডেডলাইন বাড়ানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বেশ কিছু জেলায় এখনও বহুতলের তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় গোটা প্রক্রিয়াটাই থমকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে শাসকদলের চাপ অন্যদিকে জেলাস্তরে এসআইআরের কাজ সামলাতে গিয়ে এই প্রক্রিয়ার কাজে শ্লথগতির কারণে নিয়মের বদল করে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে ডেডলাইন বাড়ানো ছাড়া গত্যন্তর ছিল না কমিশনের। যদিও এত কিছুর পরেও
‘ আরবান অ্যাপাথি ‘ দূর করে আকাশচুম্বি বহুতলের বাসিন্দারা মাটিতে নেমে ভোট দেবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন পদস্থ কর্তারাই। আর সেকারণেই মঙ্গলবার কলকাতায় পৌঁছে কলকাতার দুই ডিইও, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা হাওড়া, হুগলি ও পশ্চিম বর্ধমানের ডিইও-দের সঙ্গে বৈঠক করবেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। এজন্য রাজ্য সিইও দপ্তরে এই সাতজন ডিইও-কে সশরীরে হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু বহুতলে বুথ তৈরির পরিকল্পনায় জটিলতা নয় খসড়া ভোটার তালিকা আগে প্রকাশ হওয়ায় মূলত বুথ পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়াকেও জটিল করা হযেছে। এমনিতেই এস আই আর করে ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। যার ফলে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ থেকে কমে ৭ কোটি ৮ লক্ষে নেমে দাঁড়িয়েছে। এস আই আর শুনানি পর্বে আরো বেশ কিছু ভোটারের নাম সংযোজন ও বিয়োজনের আশঙ্কা রয়েছে। হঠাৎ সব মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা যত কমবে ততই বুথের সংখ্যা রদবদল হবে। এখনো পর্যন্ত রাজ্যের আশি হাজার 681 টি ভোটের বুথ রয়েছে। একটি বুথে ভোটারের সর্বোচ্চ সংখ্যার নয়া নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যে আরও প্রায় ১৪ হাজার বুট সংযোজন হওয়ার কথা। সেজন্য বুধ পুনর্বিন নাসের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। জেলায় জেলায় সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে কমিশনের রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তারপর বহু তলে ভোটের বুট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয়নি। বরং খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে যাওয়ায় প্রায় হাজার চারেক বা তার বেশি ভোট বুথের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। অর্থাৎ এখনো পর্যন্ত যা ভুটানের সংখ্যা তাতে রাজ্যে মোট ভোট বুথের সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার হতে পারে। সুনামি পর্বে ভোটারের সংখ্যার তারতম্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটের বুথের সংখ্যার তারতম্য হবে। খসড়া ভোটার তালিকার আগে বুট পুনর্ববিন্যাসের কাজ সম্পূর্ণ হলে সংযোজন বিয়োজনের মাধ্যমে ব্যুৎ প্রদীপ ভোটার সংখ্যা নির্দিষ্ট করার কাজটি সহজ হতো বলে মনে করছেন পদস্থ আধিকারিকরা। কিন্তু নিয়মের বদল ঘটায় সেই কাজে জটিলতা যে বাড়বে তা এক প্রকার নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন তারা। যদিও রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জটিলতার কথা মানতে নারাজ। সমস্ত রাজনৈতিক দলকে জানিয়ে এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নির্দিষ্ট পাঠ নম্বর এবং ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ থাকলে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছেন সিইও।

Share with