Uncategorized

নিয়ম ভেঙে উদ্যোগী হয়েও ভোটদানে ” আরবান অ্যাপাথি ” দূর করতে পারল না নির্বাচন কমিশ

 

ভোটদানে শহুরে অনীহা বা
‘ আরবান অ্যাপাথি ‘ দূর করতে একাধিক চেষ্টা সত্বেও সুফল মেলেনি।
শহর এবং শহরতলিতে ভোটদানে উৎসাহ বাড়াতে বহুতল আবাসনগুলির ভিতরে বুথ তৈরির পরিকল্পনা কার্যকরী করার চেষ্টা করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু যাদের জন্য সহজে ও সুলভে এই গণতান্ত্রিক অধিকার পাইয়ে দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি তাদের পক্ষ থেকেই। কেবলমাত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার চারটি আবাসন কর্তৃপক্ষ কমিশনের প্রস্তাবে সায় দিলেও শহর কলকাতা সহ রাজ্যের বাকি শহরাঞ্চল বা মফস্বল শহরগুলিতে এধরনের কোন সাড়া পায়নি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। বহুতলের সংরক্ষিত জায়গায় রাজনৈতিক ঝঞ্ঝাট মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতেই এই প্রস্তাবে সাই মেলেনি বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের রিপোর্টে সেকথা স্পষ্টভাবে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। পরিশেষে শেষ চেষ্টা হিসেবে আগামী ২৯ আগস্ট ডাকা সর্বদল বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। তবে সেই আলোচনা থেকেও কতটা সুফল মিলতে পারে তা নিয়ে সন্দিহান পদস্থ আধিকারিকরাই।

যেহেতু কমিশনের নতুন নিয়মে রাজ্যে ভোটের বুথের সংখ্যা বাড়ছে সে কারণেই এই সর্বদল বৈঠক ডেকেছে রাজ্য সিইও দপ্তর। তবে শহুরে ভোটারদের ভোটদানে অনীহা বাড়াতে যে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তা কতটা আশাব্যঞ্জক হয় তা দেখতেই বর্ধিত বুথ বিন্যাসের জেলাস্তরের প্রস্তাবিত রিপোর্ট হাতে পেয়েও সর্বদল বৈঠকের দিনক্ষণ স্থির করতে কিছুটা সময় নেয় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। যদিও সেই আশা ইতিমধ্যেই দুরাশা হয়েছে। ফলে আগামী শুক্রবারের সর্বদল বৈঠকে ছাব্বিশের নির্বাচনে বর্ধিত বুথ বিন্যাস নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে যে প্রস্তাব মিলবে তা সরকারি রিপোর্টের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেবে রাজ্য সিইও দপ্তর। রাজ্যের বহুতলের বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য বহুতলগুলির ভিতরেই ভোট বুথ করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তা যে আখেড়ে শহরাঞ্চলে ভোটদানের শতাংশ বাড়াতে কার্যকরী ভুমিকা নেবে না এমনটা আশা করছেন পদস্থ আধিকারিকরা।

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের নির্বাচনী তথ্য ঘেঁটে নির্বাচন কমিশন দেখেছে ভোটদানের ক্ষেত্রে শহর কলকাতার মানুষের যথেষ্ট অনীহা রয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রমাণ উচ্চতা থেকে মাটিতে নেমে সাধারণের সঙ্গে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ায় আগ্রহ যথেষ্ট কম উঁচু বাড়ির বাসিন্দাদের।
গত কয়েক বছরে লোকসভা-বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতা অথবা দক্ষিণ কলকাতার নির্বাচনী জেলার তথ্য থেকে স্পষ্ট যে শহর কলকাতায় গড়ে ৫৫-৫৬ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে না। মফস্বলে ভোটদানের এই হার কিছুটা বেশি হলেও গ্রামীণ এলাকায় ভোটদানের হার গড়ে ৭৫-৮০ শতাংশ বা তার বেশি। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন কমিশনের
” নো ভোটার্স লেফট বিহাইন্ড ” স্লোগানকে সামনে রেখে এই শহুরে অনীহা বা
” আরবান অ্যাপাথি ” দূর করতে বহুতলের বৃত্তের মধ্যেই ভোটের বুথ তৈরি করতে উদ্যোগী হয় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। প্রসঙ্গত, শহর কলকাতার মধ্যে যে সমস্ত হাইরাইজ বিল্ডিং রয়েছে সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে ৬০০-র বেশি ভোটার রয়েছে। একাধিকবার রাজ্যের সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এই বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে রিপোর্ট চাওয়া হলেও আশানুরূপভাবে কোন রিপোর্ট পায়নি রাজ্য সিইও দপ্তর। রাজ্যের শহরাঞ্চলের বহুতলের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে আশানুরূপ সাড়া না মেলায় কার্যত হতাশ পদস্থ কর্তারা। অতীতেও অবশ্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও লক্ষ্য অধরাই রয়ে গিয়েছে। কোনও বেসরকারি জায়গায় ভোটের বুথ তৈরি করা কমিশনের নিয়মবিরুদ্ধ। এর আগে কিছু অভিজাত আবাসনের তরফে নিজেদের কমপ্লেক্সের মধ্যেই পৃথক বুথ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে শহুরে ভোটদানের শতাংশ বাড়াতে কমিশন সেই প্রস্তাবে সায় দিলেও শহরাঞ্চলের সিংহভাগ আবাসনে এখনও ভোটে অনীহা প্রকট রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Share with