হেডলাইন

প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটার বাদ নিশ্চিত করে শেষ শুনানি পর্ব, যাচাই পদ্ধতির নমুনায় চূড়ান্ত তালিকার স্বচ্ছ্বতা নিয়ে ধন্দ

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

ছাব্বিশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিশ্চিত করে শেষ হল এসআইআরের শুনানি পর্ব। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটারের যাচাইকরণের কাজ বাকি। আরও প্রায় ৫০ লক্ষ যাচাই হয়ে যাওয়া ভোটারের তথ্য বা নথি রি-চেক করা শুরু করেছেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। ফলে এই বাকি ৬৫ লক্ষের মধ্যে আরও কয়েক লক্ষ ভোটার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন তা বলাই বাহুল্য। তার উপর ইতিমধ্যেই জমা পড়া ৪২ হাজার ৫০১ টি ফর্ম ৭ রয়েছে যেখানেও বেশ কিছু ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সংখ্যা বহুচর্চিত ” কোটি ” তে পৌঁছবে কিনা তা এখনও হলপ করে বলার সময় আসেনি বলেই জানিয়েছেন সিইও দপ্তরের আধিকারিকরা।

প্রসঙ্গত, খসড়া ভোটার তালিকায় রাজ্যে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৫৯৫ জন ভোটারের নাম অগেই বাদ গেছে। তার উপর ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার শুনানিতে না আসায় নাম বাদ নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি তথ্য যাচাইয়ের পরীক্ষায় পাশ করতে না পেরে ১ লক্ষ ৬৩ হাজারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অযোগ্য বলে বিবেচিত। স্বাভাবিকভাবেই এই তিন ক্ষেত্র মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৬৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৫৯৫ বা প্রায় ৬৫ লক্ষ। কমিশন সূত্রে খবর, তথ্য বা নথি যাচাইয়ের কাজ করতে গিয়ে যেভাবে ভুরিভুরি অসঙ্গতি সামনে আসছে তাতে ‘ ঠগ বাছতে গা উজার ‘ অবস্থা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমিশনের গাইডলাইন অমান্য হলেও বিএলও থেকে ইআরও এমনকি ডিইও পর্যন্ত সেই নথিকে প্রকারান্তরে মান্যতা দিয়ে দেওয়ায় সমস্যা বাড়ছে যাচাইয়ের কাজে। প্রজেনি নিয়ে গোলমাল থেকে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকে মান্যতা, জন্মের আগেই জন্মের সার্টিফিকেটে মান্যতা, নাবালককে ভোটার হতে সম্মতি, ২০০২ এর তালিকার সঙ্গে ২০২৫ এর তালিকায় বাবার নাম অথবা নিজের নামের মিল না থাকলেও তা যাচাই করে আপলোড করা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের অনিয়মই নিয়ম হিসেবে মান্যতা পেয়েছে বঙ্গের এসআইআরে বলে অভিযোগ তুলেছেন কমিশনের পদস্থ কর্তারা। কিন্তু সেই ভুল সম্পূর্ণ ঠিক করে স্বচ্ছ্ব ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি কতটা সম্ভব? নির্বচনী কর্তারা জানাচ্ছেন
” সময একটা বড় ফ্যাক্টর। কমিশন যদি আরও আগে থেকে পদক্ষেপ করত তাহলে এই অনিয়মের বেড়াজাল অনেকটা আটকানো যেত। ” যদিও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সুরে রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল
” ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ” থেকে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নির্বাচন কর্মীদের বিশেষ বার্তা দিতে চেয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর মন্তব্য ” মানুষ কষ্ট করে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছেন ঠিকই কিন্তু তার জন্য ভবিষ্যতে যথেষ্ট সুফল মিলবে ভোটারদেরই। নাম বাদ গেলেও তালিকা প্রকাশের পর নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ থাকবে। কমিশনের উদ্দেশ্য স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা যাতে কোন যোগ্য ভোটার ভোটদানের অধিকার থেকে বাঁধ না পড়েন আবার অযোগ্য রা ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্ত না হতে পারেন। ” সিইও মনোজবাবু ‘ শর্ট টার্ম পেন লং টার্ম গেন ‘ এ কথা মনে করিয়ে দিতে চাইলেও ২৮ ফেব্রুয়ারির রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা যে সম্পন্ন স্বচ্ছ ও নির্ভুল হিসেবে গণ্য করা যাবে তা নিয়ে সংশয় কমিশনের অন্দরেই।

Share with