প্রবাসী-পরিযায়ীর পর আধাসেনা-সরকারি কর্মীদেরও শুনানিতে বদল, ২২ শতাংশ শুনানি শেষ
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
এসআইআর শুনানি পর্ব যত এগোচ্ছে ততই পরিস্থিতির বাস্তবতা বুঝে একাধিক ক্ষেত্রে শুনানি পদ্ধতি পরিবর্তন বা শিথিল করছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকায় নাম থাকা
পরিযায়ী শ্রমিক অথবা ভিন রাজ্যে বা ভিনদেশে পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্রে যুক্ত ভোটারদের ক্ষেত্রে সশরীরে হাজিরা এড়াতে ইতিমধ্যেই বিশেষ পোর্টালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শুনানির দিনে নথি পাঠাতে পারবেন। এবার এই তালিকায় যুক্ত করা হল রাজ্যের বাইরে থাকা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি কর্মী, আধা সামরিক বাহিনীর কর্মী অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় কর্মরত ভোটারদের। এরা সকলেই শুনানি কেন্দ্রে আত্মীয়দের পাঠিয়ে
শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন বা তাদের নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণপত্র কমিশনের কাছে পাঠাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ওই আত্মীয়ের সঙ্গে ভোটারের সম্পর্কের প্রমাণপত্র থাকতে হবে এবং আত্মীয়কে ছবি নিয়ে যেতে হবে অথবা শুনানিস্থ্লে তাঁর ছবি তুলে নেওয়া হবে।
মূলত, আনম্যাপড ও লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি দুই ক্ষেত্রেই সশরীরে হাজিরা এড়িয়ে নতুন পদ্ধতিতে শুনানিতে অংশ নেওয়া যাবে।
উল্লেখযোগ্য, ইতিমধ্যেই কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ৮৫ বছর বা তার উর্ধ্বের ভোটার, অসুস্থ বা বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার অথবা যাদের সশরীরে হাজিরায সমস্যা রয়েছে বলে পরিবার বা আত্মীয়ের পক্ষ থেকে ইআরও-এইআরও দের আগাম জানানো হয়েছে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হবে। তার পাশাপাশি সশরীরে হাজিরায় একাধিক ক্ষেত্রের ভোটারদের অব্যাহতি দিয়ে এসআইআর শুনানিতে আরও বেশি গতিশীল ও জটমুক্ত করতে চায় কমিশন। সিইও দপ্তর জানিয়েছে রাজ্যজুড়ে বর্তমানে শুনানির প্রথম পর্বে ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ আনম্যাপড ভোটারের শুনানির কাজ চলছে। যার মধ্যে ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৪৭৬ জনের কাছে ইতিমধ্যেই শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৬৮ হাজার ৫৭৭ জনের শুনানিসহ ৭ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের শুনানি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে।

