হেডলাইন

প্রিজনি ভোটারদের বিচিত্র তথ্য সত্বেও খসড়া তালিকায় বিহারকে ছুঁতে পারবে বাংলা?

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

খসড়া ভোটার তালিকায় বিহারকে টপকাতে পারবে পশ্চিমবঙ্গ ? এই প্রশ্নই এখন মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বঙ্গের রাজনীতি থেকে প্রশাসনিক মহলে। বিশেষ করে যে বঙ্গের মাটি থেকে প্রথম এসআইআর বিরোধিতার সুর চড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সেই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরে কত নাম বাদ পড়বে তা নিয়ে প্রথম থেকেই আলোচনা ছিল তুঙ্গে। বঙ্গে
এসআইআর প্রাথমিক পর্ব শেষে এ রাজ্যেও ৫৮ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৫১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়া নিশ্চিত হয়েছে যার মধ্যে মৃত ভোটার ২৪ লক্ষ ১৯ হাজার ১৫৮, নিখোঁজ ভোটার ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৪৩৪, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৮১৬, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৪৭ এবং অন্যান্য ৫৭ হাজার ৬৯৬। সব মিলিয়ে রাজ্যে মোট ভোটারের প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়েছে।

এসআইআর শেষে খসড়া তালিকায় বিহারে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিহারকে ছুঁতে গেলে পশ্চিমবঙ্গে এখনও প্রায় ৭ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে হবে। রাজ্যে এসআইআর প্রাথমিক পর্ব শেষে আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা ৩০ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৭৩। সেলফ ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮১ হাজার ৬৮৩ জন এবং প্রিজনি ভোটার রয়েছেন ৩ কোটি ৮৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ২৩১ জন যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। এই আনম্যাপড এবং প্রিজনি ভোটারদের পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য এখন তৎপর রাজ্য সিইও দপ্তর এবং কমিশন নিযুক্ত কেন্দ্রীয় অবজারভাররা। কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৪৫ বছর বা তার বেশি ভোটার অথচ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই এমন প্রিজনি ভোটারের সংখ্যা ২০ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৫৬ জন, ৮৫ লক্ষ ১ হাজার ৪৮৬ জন ভোটারের বাবার নাম মিসম্যাচ হয়েছে, বাবার সঙ্গে ভোটারের বয়সের পার্থক্য মাত্র ১৫ বছর এ ধরনের প্রজেনি ভোটারের সংখ্যা ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩০ জন, বাবা মায়ের সঙ্গে ভোটারের বয়সের পার্থক্য প্রায় ৫০ বছর এমন প্রিজনি ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৩৬, দাদু অথবা ঠাকুরদার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য চল্লিশ বছরের কম এমন ভোটারের সংখ্যা তিন লক্ষ ২৯ হাজার ১৫২, ভোটার তালিকার নাম অনুযায়ী লিঙ্গবৈষম্য রয়েছে এমন ভোটারের সংখ্যা ১৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯১৮ জন।

উল্লেখযোগ্য, এস আই আর পর্বের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে টার্গেট করে অভিযোগ উঠেছিল যে সেখানেই সবচেয়ে বেশি মৃত স্থানান্তরিত বা ভুয়ো ভোটার ধরা পড়বে। অথচ এক মাসের বেশি সময় ধরে এনুমারেশন পর্ব শেষে উল্টো ছবির প্রতিফলন মিলেছে। সীমান্ত এলাকা বা প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকা নয় খোদ শহর এবং শহরাঞ্চলে এই ধরনের ভোটারের সংখ্যাই বেশি যারা ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। তবে এসআইআর পর্বের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে প্রিজনি ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রাথমিকভাবে সেই তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে বেশ কিছু গরমিলও উদ্ধার করেছেন পর্যবেক্ষকরা।
এমতাবস্থায় এই গরমিল খতিয়ে দেখে খসড়া ভোটার তালিকার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করতে চায় কমিশন। এক্ষেত্রেও গরমিলের সংখ্যা কত হতে পারে? প্রশ্নের উত্তরে কমিশনের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, ” সবমিলিয়ে সংখ্যাটা বিহারকে ছাপিয়ে যাবে এমনটা হলপ করে বলা যাবে না। ” তাহলে কি বিহারের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারবে না বাংলা ? কমিশনের পদস্থ আধিকারিকদের মতে সে আশা ” ক্ষীণ “। তবে এই সংখ্যার কচকচিতে যেতে নারাজ বঙ্গের এস আই আর পর্বে কমিশন নিযুক্ত শীর্ষ পদাধিকারী। তাঁর মতে,
“এসআইআর নিয়ে অন্যান্য রাজ্যের ভোটারদের মধ্যে সেরকম কোনও আগ্রহই নেই। পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র ব্যতিক্রম। বিএলও-রা মোটের উপর ভালো কাজ করেছেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেই জায়গাগুলোতেই রি-চেক করার কাজ চলছে। দেখা যাক কি হয় “।

Share with