পশ্চিমবঙ্গে আজ থেকেই এসআইআর
আজ সোমবার ২৮ অক্টোবর ২০২৫ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর। দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে ঘোষণা হল পশ্চিমবঙ্গে আজ, মঙ্গলবার থেকেই এসআইআর জারির। ২০০২ সালে এই রাজ্যে শেষবার এসআইআর হয়েছিল। ইতিমধ্যেই চলতি বছরে এসআইআই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিহারকে দিয়ে। এবার দ্বিতীয় দফায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর হবে। পশ্চিমবঙ্গ সহ মোট ১২টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। “বৈধ ভোটার যেমন বাদ যাবেনা, তেমনি অবৈধভাবে কারুর নাম ভোটার তালিকায় থাকবে না” সোমবারের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার রাত বারোটা বেজে গেলি ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকা। এই তালিকার ওপর দাঁড়িয়েই এসআইআর সম্পন্ন হবে। ১৮ বছর যাদের বয়স এবং আইনগতভাবে স্বীকৃত সমস্ত নথি যাদের কাছে রয়েছে তারা ভোটার তালিকায় সহজে নাম তুলতে পারবেন। জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। “একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় থাকবে না। যাদের নাম ২০০২, ২০০৩ বা ২০০৪ এর ভোটার তালিকায় নেই, তারা বৈধ ১১ টি নথি সমেত আবেদন করতে পারবেন” সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে বিএলওদের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটা ভোটারের বাড়ি তারা যাবেন। একবার নয়, সর্বোচ্চ তিন বার যাবেন। তারাই বিশেষ ফর্ম প্রদান করবেন। সোমবার বিজ্ঞান ভবনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও দুই নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। এস এস সন্ধু ও বিবেক যোশী ছাড়াও অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক বৈঠকে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দ্বিতীয় দফার এসআইআর’র তালিকায় রয়েছে উত্তর প্রদেশ, তামিলনাডু, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবর, ছত্রিশগড়, গোয়া, গুজরাট ও কেরল। এনুমারেশন ফর্ম ছাপার কাজ শুরু হবে এবং
বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হবে ২৮ অক্টোবর থেকে। শেষ হবে নভেম্বর মাসের তিন তারিখ। পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের শুধুমাত্র এনুমারেশন ফর্ম ভর্তি করতে হবে। আধার কার্ড কখনোই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য বৈধ নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আধার কার্ড কে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সেটা শুধুমাত্র পরিচয় পত্র হিসাবে। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সোমবারের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে।
১২ রাজ্যে এসআইআর
————————
• পশ্চিমবঙ্গ
• পুদুচেরি
• কেরল
• তামিলনাড
• রাজস্থান
• আন্দামান নিকোবর
• ছত্রিশগড়
• গোয়া
• মধ্যপ্রদেশ
• উত্তর প্রদেশ
• লাক্ষাদ্বীপ
• গুজরাট
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ১১ টি নথি
•••••••••••••
১. কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি কর্মচারী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী হলে সেই পরিচয়পত্র।
২. ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের কোনও সরকারি (কেন্দ্র অথবা রাজ্য) নথি। ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি-র নথিও গ্রাহ্য।
৩. জন্মের শংসাপত্র।
৪. পাসপোর্ট।
৫. যে কোনও বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া শিক্ষা সংক্রান্ত শংসাপত্র (যেখানে জন্মের সাল এবং তারিখের উল্লেখ রয়েছে)।
৬. সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থায়ী বসবাসকারীর শংসাপত্র।
৭. তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত হলে তার শংসাপত্র।
৮. জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) তালিকায় নাম।
৯. বনাঞ্চলের অধিকারের শংসাপত্র।
১০. রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের তৈরি করা পারিবারিক ‘রেজিস্টার’।
১১. সরকার প্রদত্ত জমি বা বাড়ির নথি (দলিল, পর্চা ইত্যাদি)।
৯ ফেব্রুয়ারি এসআইআর পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

